ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১২৭

ব্লু বেবি সিনড্রোম কী, কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:১৬ ৬ মে ২০২৬  

শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক সেকেন্ডই সবচেয়ে আনন্দের— বিশেষ করে যখন নবজাতকের প্রথম কান্না শোনা যায়। ফুটফুটে হাত-পা, ছোট্ট শিশু, দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু একবার ভাবুন করুন, শিশুর ত্বক যদি স্বাভাবিক গোলাপি না হয়ে নীলচে দেখায়! বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবেই ভয়ের কারণ। জন্মের ঠিক পরে এমন দেখা দিলে তাকে বলে ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলি জানা থাকলে সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

ব্লু বেবি সিনড্রোম কী?

ব্লু বেবি সিনড্রোম এমন এক অবস্থা, যেখানে শিশুর ত্বক, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যায়, কারণ রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না। এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ জন্মগত হৃদরোগ। অর্থাৎ, শিশুর হৃদযন্ত্রে জন্মের আগেই কিছু ত্রুটি তৈরি হয়, যার ফলে শরীরে সর্বত্র ঠিক মতো অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না।

ভারতে এই ধরনের জন্মগত হৃদরোগ খুব একটা বিরল নয়। প্রতি ১,০০০ নবজাতকের মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে সায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ দেখা যায়, যা শরীরে নীলচে ভাবের সৃষ্টি করে।

কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিছু লক্ষণের দিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি। যেমন— শিশুর ঠোঁট, জিভ বা আঙুল নীলচে হয়ে যাওয়া, দ্রুত বা কষ্ট করে শ্বাস নেওয়া, খাওয়ার সময় সমস্যা হওয়া বা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, ওজন না বাড়া বা কমে যাওয়া, এবং অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা নিস্তেজ ভাব। কখনও কখনও শিশুর শরীর হঠাৎ নীল হয়ে যায়, দ্রুত শ্বাস নেয় বা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এসবই জরুরি অবস্থা, প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসার।

কখন দেখা যায় এই লক্ষণ?

কোনও ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই দেখা যেতে পারে এই সমস্যা। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালে থাকলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। কিন্তু, মনে রাখতে হবে সব শিশুর ক্ষেত্রে এই লক্ষণ জন্মের পরই দেখা যায় না। অনেক সময় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পরেও উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও অভিভাবকদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে চিকিৎসা হয়?

চিকিৎসার ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক উন্নতি হয়েছে। রোগের ধরন অনুযায়ী ওষুধ, ক্যাথেটার পদ্ধতি বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। আধুনিক শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার ফলে এখন বেশিরভাগ শিশুই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এই রোগটি শুনতে ভয়ঙ্কর হলেও সঠিক সময়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।

শিশু বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর