ঢাকা, ০৬ জুন শনিবার, ২০২০ || ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
good-food
২৫৫

আবরার হত্যাকান্ডে আমরাও দায়ী

মুনীরউদ্দিন আহমদ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:৩৬ ৭ অক্টোবর ২০১৯  

বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যাকান্ডের কারণে সকাল থেকেই মানসিক অস্থিরতায় ভুগছি। ফেসবুকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখার প্রয়োজন অনুভব করছিলাম একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। 
আমি কোনোদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতিকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারিনি। এই ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পোষণ ও মদদদানকে শিক্ষার জন্য এক বড় প্রতিবন্ধকতা বলেই আমি আজীবন বিশ্বাস করে এসেছি এবং পত্রিকায় এ নিয়ে কলামও লিখেছি । 
তবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আমার দুয়েকজন ছাত্রকে দেখে ছাত্র রাজনীতিকে পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে দুয়েকবার ভাবার চেষ্টা যে করিনি, তা নয়। এদের মধ্যে একজন হলো বাহাদুর বেপারী এবং অন্যজন সুভাষ সিংহ রায়। এরা দুজনই ফার্মেসির ছাত্র হওয়ার কারণে আমার ছাত্র। বাহাদুর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছিল। সদা হাসিখুশি ভাব ও সদাচরণ ছিল বাহাদুরের অনন্য বৈশিষ্ট। ছাত্রলীগের এত বড় পদে থাকার পরও তাকে কোনো অনৈতিক, গুন্ডামী-পান্ডামীর সাথে জড়িত থাকার কথা অন্তত আমি কোনোদিন শুনিনি। 
আমি খুব অল্প বয়সে আশির দশকে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান হই। ওই সময় বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রনেতা ও সমর্থকদের মধ্যে মারামারি, খুন-খারাবি ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ছাত্রনেতারা বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য চেয়ারম্যানদের ওপর প্রচন্ড চাপ ও ভয়ভীতি প্রয়োগ করতো। চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে আমাকেও বিভিন্ন সময় অনেক অবান্চিত ভয়ংকর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু আমি ছিলাম আমার নীতিতে অবিচল ও অনড়। আমি নেতা-নেত্রীদের স্পষ্ট বলতাম, বিভাগে কোনো রাজনীতি চলবে না এবং কোনো অযৌক্তিক আবদারও গ্রহণ করা হবে না। এটা ছিল আমার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। 
ছাত্রনেতাদের অন্যায় আবদার বা সুপারিশ তো দূরের কথা, আমি তদানীন্তন উপাচার্য ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর পরীক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের ফার্মেসিতে ভর্তির লিখিত সুপারিশ আমলে নিইনি। এ নিয়ে মাননীয় উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে অনেক কঠোর হুশিয়ারি ও হুমকি আমাকে পাঠানো হয়েছিল। আমি ওসবে একটুও বিচলিত হইনি।
বন্ধুগণ, আমি এসব কেন বলছি। নিজের বাহাদুরী ঝাড়বার জন্য? না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের অনৈতিক আচরণ, নেতা-নেত্রীদের কাছে আত্মসমর্পণ, দলীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও শিক্ষকদের নৈতিকতা, সাহস ও মূল্যবোধের অভাবের কথাগুলো তুলে ধরার জন্য। 
আমার প্রশ্রয়ে ও দুর্বলতার সুযোগে আজ ছাত্রনেতা-নেত্রীরা আমাদের মাথায় চড়ে বসেছে এবং নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে হত্যা খুনখারবির মতো বড় বড় ক্রইম করে যাচ্ছে। অনেক ছাত্রছাত্রীর বিপদগামীতার জন্য কেন্দ্রীয় নেতা-নেত্রীদের মতো আমরা শিক্ষকরাও সমভাবে দায়ী।