ঢাকা, ১৬ মার্চ সোমবার, ২০২৬ || ২ চৈত্র ১৪৩২
good-food

টানা ৭ দিনের ছুটিতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৩৫ ১৬ মার্চ ২০২৬  

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী কাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। সে হিসেবে সোমবার শেষ কর্মদিবস পার করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। অফিস শেষ করেই নাড়ির টানে বহু মানুষ বাড়ির পথে রওনা হবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের ছুটি ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন গঠিত সরকার পূর্বঘোষিত ছুটির সঙ্গে আরও এক দিন ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে ৮ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৮ মার্চের আগের দিন অর্থাৎ ১৭ মার্চ পবিত্র শবেকদর। পূর্বের সিদ্ধান্তে এদিন ছুটি নির্ধারিত ছিল। ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা হওয়ায় ১৭ মার্চও এই ছুটির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সোমবার সচিবালয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টার পর থেকেই অনেকে বাড়ির গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেছেন। ৬ নম্বর ভবনে থাকা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী বলেন, “বাড়ি নেত্রোকোণা। আগেভাগে যেতে পারলে ঝামেলা কম হবে। ৪ মাস হলো বাড়ি যাইনি। দ্রুত বাড়ি পৌঁছাতে একটু আগেই বের হয়েছি অফিস থেকে।”

তিনি বলেন, “সবাই বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি একটু আগে বের হয়েছি। অনেকে কাল বা পরশু যাবেন। কেউ আবার পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকেন। তারা হয়তো নাও যেতে পারেন।”

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, “যেসব দপ্তরে কাজের চাপ একটু কম তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে দুপুরেই চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের বাড়ি ঢাকা থেকে দূরবর্তী জেলায়, তাদের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়। সংখ্যাটা হয়তো খুব বেশি নয়। অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যাওয়াটা বিধিসম্মত নয়।”

তবে ঊর্ধ্বতনের যদি সম্মতি থাকে সে ক্ষেত্রে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়-যোগ কের ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “বিশেষায়িত কিছু ক্ষেত্রে সবাই হয়তো ছুটিতে যেতেন পারবেন না। পর্যায়ক্রমে ছুটি ভোগ করতে হবে। জরুরি অনেক মিটিং হয়। কেবিনেটও হতে পারে।”

সে ক্ষেত্রে ছুটির বিষয়টি রোস্টার ডিউটিতে যেতে পারে- যোগ করেন তিনি।

৮ মার্চ জারি করা নির্বাহী আদেশে ছুটির নির্দেশনায় দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং কিছু বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঈদের ছুটিতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবার মতো জরুরি বিষয়গুলো যথারীতি চালু থাকবে।

হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক এবং কর্মীরা ঈদের এই টানা ছুটিতেও কর্মস্থলে নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন এবং অন্যান্য জরুরি পণ্য পরিবহনে কোনো বাধা থাকবে না।

ব্যাংক, আদালত ও বিশেষায়িত অফিস বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ নির্দেশনার আলোকে ছুটি ও দাপ্তরিক চলবে বলে সরকারি নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর