ঢাকা, ৩০ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২০ || ১৫ কার্তিক ১৪২৭
good-food
১৯৪

তিতা করলায় চাষির মুখে মিষ্টি হাসি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৪৮ ১৭ জুলাই ২০২০  

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে জামতলা এলাকায় তিতা করলার চাষ বেড়েছে। পাহাড়ের ঢাল এবং সমতল ভূমিতে করলা সংগ্রহ করে চাষিরা মাচার পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। কয়েকজন শ্রমিক তা বাজারে নেয়ার জন্য ঝুড়িতে সাজিয়ে নিচ্ছেন। 
লালমাই পাহাড়ে এরকম করলার চাষ করতে দেখা যায় অনেক কৃষককে। প্রথম দেখায় সবুজ পাতায় ছেয়ে যাওয়া মাচায় যে কারো চোখ আটকে যায়। এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা অনেক খুশি। 
তিতকুটে স্বাদের করলা এখন কুমিল্লার চাষিদের মুখে মিষ্টি হাসি এনে দিয়েছে। এ জেলার উৎপাদিত সবজিটি এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তারা। 
বেশ কয়েক বছর আগে এ জেলার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে চাষিরা করলা চাষে উৎসাহিত হন। তা চাষ করে স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করে ভালো লাভের মুখ দেখছেন তারা। 
কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা নিজেদের উৎপাদিত করলা নিয়ে চলে আসেন নিমসার বাজারে। পরে ক্রেতারা তাদের নিকট বিভিন্ন দামে তা ক্রয় করে মিনি ট্রাকযোগে সকাল ১০টার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে যান নিজ গন্তব্যে। 
বর্তমানে প্রতিমণ করলা হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি করছেন চাষিরা। কুমিল্লার নিমসার বাজারে এসে ঢাকার কাওরান বাজারের কামাল হোসেন নামের এক সবজি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলো।
তিনি জানান, কুমিল্লার করলার গুণগত মান উন্নত। এখান থেকে তা কিনে লাভ ভালো হয়। তাই বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার করলা রাজধানীর কাওরান বাজারে সরবরাহ করছি। 
লালমাইয়ের চাষি আমিরুল বলেন, গত কয়েক বছর করলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছি। 
বাজারের ক্রেতা বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন নিমসার হতে প্রায় ১শ’ থেকে ১৫০ টন করলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। 
জামতলার কৃষক মোকাররম আলী বলেন, ১৫ বছর ধরে এ সবজি চাষ করি আমি। করলা চাষ করে ভালো লাভ হয়েছে। 
বাজারে করলা নিয়ে যাবেন-তাই তাড়াহুড়োর মধ্যে তিনি জানালেন, ৩৬ শতক জমিতে করলা চাষ করতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এ জমি থেকে ৬০-৭০ হাজার টাকার সেটা বিক্রি করতে পারব। পাইকারি ৩৫-৪০ টাকায় বেচি। যা খুচরা বাজারে ৫০-৬০ টাকায় কিনছে সবাই। ৎ
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আইউব মাহমুদ বলেন, সদর দক্ষিণের লালমাই পাহাড় এলাকার ৯০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হচ্ছে। যেখানে পানি জমে না এমন উঁচু-মাঝারি জমির দোআঁশ মাটিতে এর ফলন বাম্পার হয়। কৃষি বিভাগ সার ও কীটনাশক প্রয়োগে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে।