ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর বুধবার, ২০১৯ || ২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩৯

পেঁয়াজ-লবণ নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে একটা গোষ্ঠী : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৩:৩৫ ২১ নভেম্বর ২০১৯  


গুজব ছড়িয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির কড়া সমালোচনা করলেন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপপ্রচারে কান না দিতে আহ্বান জানালেন দেশবাসীর প্রতি।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, মাঝে মাঝে আমরা দেখি কিছু অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়। আমি সবার কাছে একটা কথা বলব - অপপ্রচারে কান দেবেন না।
ভারত সেপ্টেম্বরের শেষে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর এক লাফে দাম ছাড়িয়ে গিয়েছিল ১০০ টাকা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পর যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের দাম দুই দিনে উঠে যায় আড়াইশ টাকায়। সরকারের হুঁশিয়ারি আর বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানির খবরে রাতারাতি তা বেশ খানিকটা কমেও যায়।
কিন্তু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লাভের চেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয় ভোক্তাদের বিশ্বাসে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার রাত থেকে লবণ সঙ্কট ও দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়ে। 
সেই গুজবে কান দিয়ে লবণ কিনতে দোকানে দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। সুযোগ বুঝে অনেক ব্রিকেতা দাম বাড়িয়ে দেন।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করে যে সরকার মঙ্গলবার প্রেস নোট দিয়ে জানায়, বাজারে লবণের সংকট নেই, গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে।
সেই প্রসঙ্গ টেনে বৃহস্পতিবার সকালে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। দেশের মানুষ ভালো আছে। তারপরও একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে। মানুষের মধ্যে বিভান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। পেঁয়াজ নেই, লবণ নেই, এটা নেই, সেটা নেই … নানা ধরনের কথা প্রচার হয় এবং এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এটা করবে আমি জানি। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে। আমরা সেভাবেই চলছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে, প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, সে লক্ষ্যে আমরা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছি। যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর দিচ্ছি। যাদের জমি নেই, তাদের জমি দিচ্ছি। গুচ্ছগ্রাম, আদর্শ গ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেককে পুনর্বাসন করছি।

তিনি বলেন, গরিবের সন্তানরা যেন লেখাপড়া করতে পারে, সেজন্য বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি। বিনা পয়সায় ছেলে-মেয়েদের বই দেয়া হচ্ছে। আজকের শিক্ষার্থীরা যাতে লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে পারে, তারা যেন এ দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারে, সেজন্যই আমরা এ কাজগুলো করছি।

সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনাদের সন্তান, নাতি-পুতিদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলবেন। তারা যেন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারে। দেশকে ভালোবাসতে পারে। যুদ্ধ করে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। বাঙালি বীরের জাতি, এ কথা যেন নতুন প্রজন্মের সন্তানরা জানতে পারে। ভবিষৎ প্রজন্ম বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। কারণ, আমরা বীরের জাতি। বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণে বলেন, ‘বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’
এ ছাড়া দেশের যেখানে গণকবর আছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
এর আগে সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধে  আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যথাযথ মর্যাদায় নানা কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, তাদের উত্তরাধিকারী এবং ২০১৯-২০২০ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আজ এ  অনুষ্ঠানে ৯ জন সেনা, ২ জন নৌ এবং ৩ জন বিমান বাহিনী সদস্যকে ২০১৮-২০১৯ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়।


অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর