ঢাকা, ০১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
৫

মিষ্টির আসন শূন্য হচ্ছে, পদ হারাচ্ছেন না নজরুল: অ্যাটর্নি জেনারেল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৪৩ ১ অক্টোবর ২০২৬  

স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসন শূন্য হতে যাচ্ছে। তবে কেবল দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় সংসদ সদস্য পদ হারাচ্ছেন না গাজী নজরুল ইসলাম। দেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আলোকে দুই সংসদ সদস্যের বিষয়ে এমন আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা।

সম্প্রতি সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ এবং জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাদের পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “আমাদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত বা প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ যাওয়ার দুটি কারণ উল্লেখ আছে। একটি হলো তিনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। আর অন্যটি হলো উনি যদি সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন। মিষ্টির ক্ষেত্রে ভোটদানের প্রশ্ন আসছে না, প্রশ্ন আসছে পদত্যাগের।”

তিনি জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী (যিনি একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপির চেয়ারপারসন) তার প্রেস সচিবের মাধ্যমে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ফলশ্রুতিতে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “মিষ্টি যেহেতু পদত্যাগ করেছেন, এই পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দেবেন। স্পিকার এটি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন এবং কমিশন পদটি শূন্য ঘোষণা করবে। যেহেতু তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য, পরবর্তীতে এই পদ পূরণের জন্য ইসি তফসিল দেবে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ করা হবে।”

তবে বর্তমান সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেও আগামীতে মিষ্টির নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকবে না বলে স্পষ্ট করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, “পদত্যাগের এই বিষয়টি শুধু বর্তমান সংসদের মেয়াদকালের জন্য কার্যকর হবে। পরবর্তী সংসদে উনি (মিষ্টি) যদি সরাসরি বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চান, তবে এটি তার জন্য কোনো অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে না।”

গাজী নজরুলের পদ কেন শূন্য হচ্ছে না?

নৈতিক স্খলনজনিত কারণে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি।

এ বিষয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “গাজী নজরুল কিন্তু পদত্যাগ করেননি। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সুস্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন—একজন ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না।”

নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংবিধানের বিধান মোতাবেক চলবে। তারা প্রথমে দেখবে তিনি পদত্যাগ করেছেন কি না বা দলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন কি না। গাজী নজরুল জামায়াত ত্যাগও করেননি এবং সংসদে দলের বিপক্ষে ভোটও দেননি। সুতরাং একটি দল কাউকে বহিষ্কার করলেই তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায় না। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।”

দলীয় প্রধানের নির্দেশে আইনি জটিলতা নেই

একজন সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় প্রধান এভাবে পদত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টিকে ‘দলীয় ব্যাপার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও বলেন, “যিনি দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, তার ওপর দলের একটি নিয়ন্ত্রণ থাকে। ব্যক্তি ও দলের সঙ্গে এটি একটি আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা চুক্তি। কারণ, তিনি যদি দল থেকে মনোনয়ন না পেতেন, তবে এমপি হতে পারতেন না।”