ঢাকা, ০৩ মার্চ মঙ্গলবার, ২০২৬ || ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
১০

শিগগিরই তেলের দাম ছাড়াবে ১০০ ডলার!

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৫৯ ৩ মার্চ ২০২৬  

মধ্যপ্রাচ্যে ইউএস-ইস্রায়েল হামলা এবং এর জবাবে ইরানের শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব তেলের বাজার ভয়াবহভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক নতুন সংকটের মুখে ফেলবে।

সোমবার, হামলার পর প্রথম ব্যবসায়িক দিনেই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১৩% পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং দিনের শেষে তা প্রায় ৭৭ ডলারে স্থির হয়। বিশ্বজুড়ে ট্রেডারদের চোখ এখন হরমুজ প্রণালীর দিকে, যা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ হিসেবে পরিচিত। ইরান সপ্তাহান্তে তিনটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালানোর পর এই প্রণালীতে বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ইরানী ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর দেশের বৃহত্তম তেল শোধনাগারটি বন্ধ করে দিয়েছে। এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল ও গ্যাস স্থাপনাও বন্ধ হতে শুরু করেছে। বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি উৎপাদক কাতারএনার্জি গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করায় ইউরোপীয় গ্যাসের দামেও তীব্র উল্লম্ফন দেখা গেছে।

কেন বাড়ছে তেলের দাম?

বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের মাত্র ৩-৪% ইরানে উৎপাদিত হলেও এর কৌশলগত অবস্থান বাজারকে প্রভাবিত করার জন্য যথেষ্ট। হরমুজ প্রণালী ইরানের পাশেই অবস্থিত, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এবং বিপুল পরিমাণ গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালীতে যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে পারে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম জ্যাকসন বলেন, "যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং বিশেষ করে যদি ইরানের সরবরাহ ব্যাহত হয় বা তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করে, তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।"

হরমুজ প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালী হলো পারস্য উপসাগর থেকে আরব সাগরে যাওয়ার একমাত্র জলপথ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলো এই পথেই তাদের তেল বিশ্ববাজারে পাঠায়।

সংঘাতের কারণে এই প্রণালীতে চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছানো থেকে বঞ্চিত হবে, যা সমুদ্রপথে বাহিত মোট তেলের প্রায় ৩০%। রিস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিয়ন বলেন, "প্রণালী বন্ধ হোক বা ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকুক, প্রভাব প্রায় একই। যদি দ্রুত শান্তির কোনো ইঙ্গিত না আসে, তবে তেলের দাম আরও বাড়বে।"

বাজার শান্ত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ওপেক এবং রাশিয়া-সহ মিত্র দেশগুলোর জোট OPEC+ রবিবার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে এই অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে তেমন কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারবে না।

তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে। উইলিয়াম জ্যাকসনের মতে, "সাধারণত, তেলের দাম বছরে ৫% বাড়লে প্রধান অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ০.১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি বাড়ে। যদি ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারে পৌঁছায়, তাহলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ০.৬ থেকে ০.৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।"
উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর করে দেবে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত বিশ্বকে এক বড় অর্থনৈতিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে।