ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার, ২০১৯ || ৩১ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২৪২

শ্রীলংকার কান্না এবং আই এস-এর দায় স্বীকার  

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ

প্রকাশিত: ১৩:৩৭ ২৫ এপ্রিল ২০১৯  


১. ইস্টার সান ডেতে শ্রীলংকায় গীর্জা এবং হোটেলে সিরিজ বোমা হামলা করে নৃশংসভাবে তিনশতাধিক মানুষকে  হত্যা করা হয়। শ্রীলংকা সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে দোষীদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করে নি বা করতে পারে নি। প্রকারান্তরে আই এস তথা ইসলামিক স্টেট এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। আলোচনার খাতিরে তাদের দাবীকে সঠিক বিবেচনায় নিয়েই কথা বলতে প্রয়াস পাচ্ছি। যদিও ইতিহাস বলে অতীতে আই এস অন্যের কৃতকর্মের ক্রেডিট হাইজ্যাক করে নিজের নামে চালিয়েছে।

২. আই এস একটি উগ্র মৌলবাদী জংগি ইসলামি গোষ্ঠী। সিরিয়া এবং এর আশেপাশে এদের নিবাস। সাদ্দাম হোসেনের ভেংগে যাওয়া সেনাবাহিনীর অনেক প্রশিক্ষিত পেশাদার সেনা আই এসে নাম লিখিয়েছে বলে ধরা হয়। খোদ ইউরোপের অনেক সুশিক্ষিত তরুণ, এমন কি বাংলাদেশের কিছু বিভ্রান্ত নারীও আই এস - এ যোগ দিয়েছে বলে জানা যায়।

৩. কেন এবং কি ভাবে এই আই এসের উত্থান তা নিয়ে ব্যপক আলোচনার দাবী রাখে। তবে আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং সমাজতন্ত্রের আপাত পতন সারা পৃথিবীকে ' আইডোলজিক্যাল ক্রাইসিসে ' ফেলে দেয়। নতুন করে উত্থান শুরু হয় বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র, জাতির উগ্রবাদী সংগঠন। নব্য নাতসীবাদ, বর্ণবাদের মত ঘৃণ্য মতবাদে উচ্চ শিক্ষিত কিছু লোক মাথা ন্যাড়া করে। ভারতে উত্থান হয় উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তির। তারা এক পর্যায়ে এতই ক্ষমতাধর হয় যে মহাত্মা গান্ধীর মত সেক্যুলার নেতার দেশে খোদ রাষ্ট্রযন্ত্রই চলে যায় ধর্মভিত্তিক শক্তির হাতে।  ' প্রাণী হত্যা করা মহাপাপ ' বুলি কপচানো বৌদ্ধরা শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সান সুচির দেশে মুসলমান হত্যার তান্ডবলীলা চালায় । অর্ধ শতাব্দীর চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্থিনিদের ওপর চালানো নির্যাতন নানা ছুতায় ইজরাইল মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়িয়ে দেয়।

৪. আরব বসন্তের নামে ধূর্ত মার্কিনীরা কূটচালে মুসলিম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের ভিতরে সশস্ত্র লড়াই লাগিয়ে দেয়। কোথাও মার্কিনীরা সরাসরি সেনা পাঠায়। ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়মেনকে প্রায় যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশে পরিণত করা হয়। এই সময়ে বিভিন্ন মুসলিম জংগি গোষ্ঠীর একটি হিসেবে আই এস ব্যপক শক্তি অর্জন করে। তাদের নেটওয়ার্ক ইউরোপ আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পরে।

৫. প্রশ্ন আসে আই এস সম্প্রতি এই বোমা হামলায় কেন শ্রীলংকাকে বেছে নিল? এক কথায় এর উত্তর দেয়া কঠিন। তবে জংগি হামলা ঠেকানোর জন্য ইউরোপ আমেরিকা সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয়ায় সেখানে আই এস নতুন করে আক্রমন পরিচালনার মত নতুন করে শক্তিধর হয়ে উঠতে পারে নি। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বিরোধ প্রায় প্রকাশ্যে থাকায় আক্রমণ চালানো সহজ ছিল। দীর্ঘদিন তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই দেশটির অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির ব্যাপক অপচয় ঘটে। অনুমান করা হয় তাদের গোয়েন্দাদের প্রধান দৃষ্টি তামিলদের দিকে থাকায় অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর প্রকারান্তরে গৌণ হয়ে পড়ে। আই এস এসব কিছুই হয়ত বিবেচনায় নিয়েছিল। এমন কি আইএসরা তামিল টাইগারদেরকে তাদের অপঘাতমূলক কর্মকান্ডে ব্যবহার করেছে কি না এই প্রশ্নও এসে পড়ে।

৬. আগেই বলেছি, এখনও শ্রীলংকা বা দায়িত্বশীল কোন রাষ্ট্র অপরাধীদের সঠিক পরিচয় উদঘাটন করতে পারে নি। সত্য প্রকাশিত হোক। হামলাকারী এবং তাদের গডফাদারেরা যে ধর্মের যে জাতিরই হোক না কেন, পরবর্তী প্রজন্মকে শান্তির পৃথিবী উপহার দিতে গেলে তাদেরকে খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া সারা পৃথিবীর কোটি কোটি শান্তিকামী মানুষের এখন একমাত্র দাবী।