ঢাকা, ৩০ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২৬ || ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৪

সোনার ডিম পাড়া হাঁস যেন মেরে ফেলা না হয়

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:৪১ ২৯ অক্টোবর ২০২৬  

তাৎক্ষণিক সাফল্যের আশায় নাহিদ রানার ফিটনেস নিয়ে ঝুঁকি না নিতে বাংলাদেশ দলীয় ব্যবস্থাপনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ফাস্ট বোলার ও খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ।

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ পেসার হিসেবে নাহিদকে উল্লেখ করে বিশপ বলেন, তাঁর অসাধারণ গতির কারণে যেকোনো আন্তর্জাতিক দলের জন্য তিনি মূল্যবান সম্পদ। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে তাঁর।

বিশপ বলেন, “যখন আপনার দলে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে এমন একজন বোলার থাকে, তখন বিশ্বের প্রতিটি দল এমন একজন বা দুজন বোলার পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

তবে চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার আগে তরুণ এই পেসারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর ব্যাপারে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছেন তিনি। বিশপের মতে, ফাস্ট বোলিং শরীরের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “তাকে নিয়ে সতর্ক থাকুন। তাৎক্ষণিক সাফল্য পাওয়ার আশায় সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে মেরে ফেলবেন না।”

খেলোয়াড়ি জীবনে নিজেও স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের সমস্যায় ভুগেছেন বিশপ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য নাহিদকে শারীরিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে বাংলাদেশ দলের চিকিৎসক, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরে নাহিদের অনুপস্থিতিকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন বিশপ। অস্ট্রেলিয়ার পিচে বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়ে নাহিদ কী করতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

বিশপ বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, নাহিদ বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাবনাময় সুপারস্টারদের একজন।” তিনি আরও বলেন, নাহিদ ফিট থাকলে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেট নতুন যুগে প্রবেশ করতে পারে।

বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণের সামগ্রিক উন্নতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশপ। এ ক্ষেত্রে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলামের অগ্রগতির কথা বলেছেন তিনি।

বিশপ বলেন, বাংলাদেশ এখন আর শুধু স্পিন বোলিং কিংবা একজন পেসারের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন কন্ডিশনে টেস্ট ক্রিকেটে কার্যকর বিকল্প হিসেবে একাধিক পেসার তৈরি হয়েছে।

হাসান মাহমুদকে তিনজন স্লিপ ও একজন গালি ফিল্ডার নিয়ে বোলিং করতে দেখার স্মৃতিচারণা করে বিশপ বলেন, ওই ফিল্ডিং সাজানো তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের পাশাপাশি অতীতের দুর্দান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি আনন্দের বিষয় যে, আমরা একজন দ্রুতগতির বোলারের ওপর নির্ভরশীল অবস্থা থেকে এখন এমন পর্যায়ে এসেছি, যেখানে পাঁচ-ছয়জন বোলারের মধ্য থেকে পছন্দ করে নিতে পারি।”

হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে বিশপ তাঁকে অসাধারণ লাইন ও লেংথের বোলার হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, হাসান বারবার পিচের নির্দিষ্ট জায়গায় বল ফেলতে সক্ষম।

বিশপ বলেন, পেসনির্ভর বোলিং আক্রমণ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রচেষ্টা দেশের ব্যাটারদেরও উপকৃত করতে পারে। কারণ, বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়ে যে ধরনের কন্ডিশনের মুখোমুখি হতে হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেসব পরিস্থিতির জন্য ব্যাটাররা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন।

টেস্ট ক্রিকেটে লিটন দাসের উন্নতিরও প্রশংসা করেন বিশপ। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে লিটনের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু প্রত্যাশিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর