ঢাকা, ২৮ অক্টোবর বুধবার, ২০২৬ || ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
১২

মালয়েশিয়ায় হুন্ডি চক্রের সন্ধান, ৮ বাংলাদেশি আটক

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:৫২ ২৮ অক্টোবর ২০২৬  

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চৌ কিট এলাকায় হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে আট বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। 

বুধবার দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালয় মেইলের এক প্রতিবেদিনে জানানো হয়, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার আড়ালে পরিচালিত তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। 

এতে বলা হয়, চক্রটি ক্লাং ভ্যালি এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে অর্থ লেনদেন করত বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত এক মাস ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর মঙ্গলবার বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়। আটক বাংলাদেশিদের বয়স ২৪ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে।

জাকারিয়া বলেন, কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে চক্রটি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চক্রটি ই-ওয়ালেট ও স্থানীয় ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করত। এ সব হিসাব বিদেশি এজেন্টদের নামে নিবন্ধিত ছিল। যে সকল গ্রাহকের ডিজিটাল হিসাব ব্যবহারের সুযোগ ছিল না তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ ও নগদেই অর্থ পাঠানো হতো।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং সময়সূচি অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করত। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের লেনদেন চলত।

জাকারিয়া আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ই-ওয়ালেট হিসাবগুলোতে ১ লাখ ৮০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিতের বেশি লেনদেন করেছে তারা।

অভিযানে নগদ ২৪ হাজার ৭২০ রিঙ্গিত জব্দ করা হয়েছে। এ অর্থ অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া পাঁচটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, সিসিটিভি সরঞ্জাম, কিউআর কোড এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক নথি জব্দ করা হয়।

জব্দ করা নথির মধ্যে মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের (এসএসএম) কাগজপত্রের অনুলিপি, কুয়ালালামপুর সিটি হলের (ডিবিকেএল) লাইসেন্স, দোকানের সিল ও প্রতিষ্ঠানের চাবি রয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, আটক আট বাংলাদেশির মধ্যে দুজন নির্ধারিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। অন্য ছয়জনের বিরুদ্ধে তাদের অভিবাসন পাসের শর্ত অপব্যবহারের সন্দেহ রয়েছে।

অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ১৫(১)(সি) ধারা এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) বিধি লঙ্ঘনের সন্দেহে আটককৃতদের তদন্তের স্বার্থে অভিবাসন কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও দুই বাংলাদেশি পুরুষ এবং মালয়েশিয়ার এক পুরুষ ও এক নারীকে তদন্তে সহায়তার জন্য অভিবাসন কার্যালয়ে হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

পুত্রজায়ায় অবস্থিত অভিবাসন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ জাতীয় আর্থিক অপরাধবিরোধী কেন্দ্রের (এনএফসিসি) সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর