ঢাকা, ১৪ অক্টোবর বুধবার, ২০২৬ || ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
৫

রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:২৯ ১৪ অক্টোবর ২০২৬  

চাকরির কথা বলে বাংলাদেশ থেকে ৩০ জনকে নেওয়া হয় রাশিয়ায়। সেখানে তাদেরকে তুলে দেওয়া হয় দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে। যাদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে।

মানবপাচার চক্রের শিকার হয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের রাশিয়ায় পাচার হওয়ার এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহা. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, আহত অবস্থায় ফেরত আসা দুই বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে এসআরবি। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের মূল হোতা, জাবালে নূর নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজান এবং আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ থেকে রাশিয়া পৌঁছানোর পর একটি হোটেলে আটকে রাখা হয় ৩০ জনকে। কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট, মোবাইল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। এরপর প্রত্যাশিত চাকরি না দিয়ে হস্তান্তর করা হয় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে।

“সেখানে তাদের ২১ দিনের একটা ট্রেনিং হয় এবং তারপর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর পরে তাদেরকে তিনটা সেগমেন্টে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়,” বলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে তিনটি ভাগে তাদেরকে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন সময় আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।

এসআরবির বলছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে একধরনের শিকার হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতো এই বাংলাদেশিদের। অর্থাৎ তাদের ওপর ড্রোন হামলার মধ্যদিয়ে হামলাকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হতো।

এ ঘটনায় জড়িত জাবালে নূর ছাড়াও এসআরবি ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসআরবি বলছে, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই মোট ৩০ জন বিদেশে যায়। যার মধ্যে জাবালে নূর প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজানের মাধ্যমে রাশিয়া গিয়েছিলেন ২১ জন।

অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর