চলচ্চিত্রের এ শূণ্যতা পূরণ হবে কি?
ঝড় তোলা এক অনন্য নানা
আনোয়ার হক
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ১৩:২৪ ৮ অক্টোবর ২০২৬
চলচ্চিত্র জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করে চিরতরে চলে গেলেন শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকর। ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের গোয়ায় নিজের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) ৭৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
পারিবারিক সূত্র ও গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভোরে গোয়ার পানাজির কাছাকাছি ডোনা পাউলায় নিজের ফ্ল্যাটে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন নানা পাটেকর। এরপরই তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে যান।
তাঁকে দ্রুত গোয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান।
হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার জানান, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা টানা ৪৫ মিনিট ধরে একটানা সিপিআর (CPR - কার্ডিওপালমোনারি রিসাসটেশন) দিয়ে তাঁর হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মলহার পাটেকর। তিনি বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সময় পুনেতে অবস্থান করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মমাফিক এই ঘটনার পর একটি মেডিকো-লেগাল কেস (MLC) রুজু করা হয়েছে। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
অনন্য এই অভিনেতার মহাপ্রয়াণে মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে গেল ৪ অক্টোবর একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে নানা পাটেকর যেন নিজের বিদায়ের আভাস দিয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, "একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে"।
সিনিয়র সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই জানান, গতকালই নানার সাথে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল এবং নানার শেষ কথা ছিল, "কালজি ঘে রাজা" (নিজের যত্ন নিও, রাজা)।
নানা পাটেকরের এই আকস্মিক বিদায় খবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গভীর শোক জানিয়েছেন। বলেছেন, তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদী লিখেছেন, "শ্রী নানা পাটেকর জির মতো তীব্রতা, ব্যক্তিত্ব এবং অনবদ্য উপস্থিতি খুব কম অভিনেতারই ছিল। হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় তাঁর অবদান অতুলনীয়।"
এছাড়া অক্ষয় কুমার, জুনিয়র এনটিআর, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সহ বিনোদন জগতের বিশিষ্টজন ও লাখ লাখ ভক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের প্রিয় অভিনেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জ্ঞাপন করছেন।
শীর্ষ সংবাদ মাধ্যমের খবর
নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবরটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি এবং প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (PTI) সহ শীর্ষ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তাঁর জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টার বিবরণ উঠে এসেছে।
মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি মধ্যরাতের বার্তায় জানায়, মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে নানা পাটেকর তাঁর এক বন্ধুকে মেসেজ করে জানান যে তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। রাত গভীর হওয়ায় বন্ধুটি মেসেজ দেখতে পাননি।
ভোর ৪টার দিকে তাঁর সেই বন্ধু গোয়ার ডোনা পাওলার বাসভবনে পৌঁছান। তখন নানা পাটেকর প্রচণ্ড ঘামছিলেন এবং ধীরে ধীরে সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সেই চিকিৎসকরা কার্ডিয়াক ম্যাসাজ বা সিপিআর (CPR) শুরু করেন। ভোর ৪টা ২০ থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে হাসপাতালে আনা হলেও চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া – PTI জানাচ্ছে, পরিবার ছাড়া কেবল বন্ধু ও কেয়ারটেকারের উপস্থিতিতে হাসপাতালে আনার কারণে নিয়মমাফিক এই ঘটনাটিকে একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) হিসেবে রুজু করা হয়েছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোয়া মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ মারাত্মক হৃদরোগ (Severe Cardiac Arrest) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এবিপি নিউজ জানায়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ প্রবীণ এই অভিনেতাকে মাটির কাছাকাছি থাকা এক সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
একজন শক্তিমান অভিনেতার শুরুর গল্প
নানা পাটেকর-এর আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। তিনি চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শক্তিশালী, প্রভাবশালী এবং ব্যতিক্রমী অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। অভিনয়ে অনন্য সংলাপ বলার শৈলী, তীব্র অভিব্যক্তি এবং বাস্তবসম্মত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে এক অবিস্মরণীয় স্থান তৈরি করেছেন।
১৯৫১ সালে ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জানজিরায় এক সাধারণ মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নানা পাটেকর। তাঁর পিতা দিনকর পাটেকর ছিলেন একজন ছোট বস্ত্র ব্যবসায়ী এবং টেক্সটাইল পেইন্টার।
তাঁর শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁদের পরিবার সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে তীব্র অর্থকষ্টে পড়ে। এ সময় নিজের পড়াশোনা ও বেঁচে থাকার তাগিদে মাসে মাত্র ৩৫ টাকার বিনিময়ে বলিউডের সিনেমার পোস্টার পেইন্টিংয়ের কাজ শুরু করেন নানা।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মুম্বাইয়ের বিখ্যাত স্যার জে. জে. ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড আর্ট থেকে কমার্শিয়াল আর্টের ওপর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। অভিনয়ে আসার আগে তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় একজন পেশাদার ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন।
সাংস্কৃতিক জীবন
নানা পাটেকরের অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল তাঁর বাবার হাত ধরে, যিনি নিজে নাটক পছন্দ করতেন এবং নানাকে নাটক দেখতে উৎসাহিত করতেন। জে. জে. আর্ট ইনস্টিটিউটে পড়ার সময় থেকেই তাঁর থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ তীব্র হয়। মূলত মারাঠি থিয়েটার বা নাট্যমঞ্চের মাধ্যমে তাঁর সাংস্কৃতিক জীবন শুরু করেন নানা। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতা তাঁর পরিচালিত প্রথম নাটকে তাকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। থিয়েটারের এই কঠোর শৃঙ্খলা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
অভিনয় জীবন ও চলচ্চিত্র যাত্রা
১৯৭৮ সালে মারাঠি ছবি গদদ ঝালি এবং হিন্দি ছবি গমন-এর মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয়। শুরুর দিকে বেশ কিছু ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৮৮ সালে মীরা নায়ারের একাডেমি পুরস্কার মনোনীত ছবি সালাম বম্বে-তে তাঁর অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৯৮৯ সালের অপরাধমূলক ড্রামা ফিল্ম ‘পরিন্দা’। এই ছবিতে এক মানসিক বিকারগ্রস্ত গ্যাংস্টারের চরিত্রে তাঁর হিংস্র ও তীব্র অভিনয় তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়।
নব্বইয়ের দশকে বেশ কিছু বাণিজ্যিকভাবে সফল ও সমালোচক-ধন্য চলচ্চিত্র উপহার দেন নানা পাটেকর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক (১৯৯১ - নিজেই পরিচালনা করেন), অঙ্গার (১৯৯২), তিরঙ্গা (১৯৯৩), ক্রান্তিবীর (১৯৯৪), অগ্নি সাক্ষী (১৯৯৬) এবং খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল (১৯৯৬)। বিশেষ করে ক্রান্তিবীর ছবিতে তাঁর অনবদ্য সামাজিক প্রতিবাদী মনোলগ ও সংলাপ প্রক্ষেপণ আজও আইকনিক হিসেবে বিবেচিত।
নানা পাটেকারের জীবন ছিল বহুমাত্রিকতায় পূর্ণ। গম্ভীর ও রাগী চরিত্রের বাইরেও তিনি যে দারুণ কমেডি করতে পারেন, তা প্রমাণ করেন ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ওয়েলকাম-এ ডন 'উদয় শেঠি' চরিত্রে অভিনয় করে। এরপর রাজনীতি (২০১০) এবং মারাঠি ধ্রুপদী চলচ্চিত্র নাটসম্রাট (২০১৬)-এ একজন অবসরপ্রাপ্ত থিয়েটার অভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের চোখে জল এনে দিয়েছিল। তাঁর শেষ অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য ভ্যাকসিন ওয়ার (২০২৩) এবং ২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ও রোমিও।
চলচ্চিত্র এবং অভিনয়ের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য নানা পাটেকর ভারতের রাষ্ট্রীয় ও চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ পুরস্কারগুলোতে ভূষিত হয়েছেন।
পদ্মশ্রী (২০১৩): শিল্পকলা ও চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী-তে ভূষিত করে।
এছাড়া পেয়েছেন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এগুলো হলো: পরিন্দা (১৯৮৯) - শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা, ক্রান্তিবীর (১৯৯৪) - শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং অগ্নি সাক্ষী (১৯৯৬) - শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা।
তিনি বলিউডের একমাত্র অভিনেতা যিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (ক্রান্তিবীর), শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা (পরিন্দা) এবং শ্রেষ্ঠ খলনায়ক (অঙ্গার ও অপহরণ) - এই তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতেই ফিল্মফেয়ার জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।
প্রহার চলচ্চিত্রের জন্য ৩ বছর সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি ভারতীয় টেরিটোরিয়াল আর্মিতে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সাথে সক্রিয়ভাবে সীমান্তে মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে ভূষিত হন।
১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক সিনেমাটি ছিল নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মাইলফলক। এটি কেবল তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমাই ছিল না, বরং হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সামরিক জীবনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত চিত্রায়ণও ছিল। এই ছবির নেপথ্যে রয়েছে নানার চরম আত্মত্যাগ ও কঠোর সামরিক সাধনার গল্প।
সিনেমায় একজন কঠোর আর্মি কমান্ডো ইন্সপেক্টর (মেজর প্রতাপ চৌহান) চরিত্রের নিখুঁত রূপায়ণের জন্য নানা পাটেকর কোনো ডামি বা শর্টকাট পথ বেছে নেননি। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি (Maratha Light Infantry) রেজিমেন্টের সাথে টানা ৩ বছর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন।
যখন তিনি এই ট্রেনিং শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর। এই বয়সেও তিনি তরুণ জওয়ানদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিদিনের ড্রিল, দূরপাল্লার ট্রেকিং, আধুনিক অস্ত্র চালনা এবং বিপজ্জনক কমান্ডো মহড়া সম্পন্ন করেন। তাঁর শৃঙ্খলা ও পারদর্শিতা দেখে ভারতীয় সেনাবাহিনী এতটাই মুগ্ধ হয়েছিল যে, ট্রেনিং পিরিয়ডের একপর্যায়ে তিনি সেখানে অন্যান্য ক্যাডেটদের ইন্সপেক্টর বা ট্রেইনার হিসেবেও কিছু সময় দায়িত্ব পালন করেন।
এই কঠোর ট্রেনিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ১৯৯৯ সালে। কার্গিল যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন নানা পাটেকর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনি সরাসরি তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের সাথে যোগাযোগ করে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি চান। প্রথমে বেসামরিক নাগরিক হিসেবে তাঁকে অনুমতি দেওয়া না হলেও, নানার ৩ বছরের সামরিক ট্রেনিংয়ের রেকর্ড দেখে মন্ত্রী অবাক হন এবং তাঁকে বিশেষ অনুমতি দেন। তিনি টেরিটোরিয়াল আর্মির অনারারি ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল) হিসেবে লাইন অব কন্ট্রোল (LoC)-এর অত্যন্ত বিপজ্জনক এলাকা - দ্রাস, কুপওয়ারা, বারামুল্লায় প্রায় দুই মাস কুইক রিঅ্যাকশন টিম (QRT)-এর সাথে সক্রিয়ভাবে কাটান এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর ২০ কেজি ওজন হ্রাস পেয়েছিল।
নানা পাটেকরের অভিনয় জীবন যতটা তীব্র ও প্রভাবশালী ছিল, তাঁর নেপথ্যের গল্প এবং বাস্তব জীবনের নানা ঘটনা সিনে দুনিয়ায় ঠিক ততটাই ঝড় তুলেছিল। স্পষ্টভাষী, আপসহীন এবং প্রচণ্ড রাগী স্বভাবের জন্য পরিচিত এই অভিনেতা বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু কাণ্ড ঘটিয়েছেন, যা বলিউডের ইতিহাসে আজীবন চর্চিত হবে।
'পরিন্দা'র সেটে বিধু বিনোদ চোপড়ার কলার চেপে ধরা
১৯৮৯ সালের কালজয়ী ছবি পরিন্দা-র শুটিংয়ের সময় পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়ার সাথে নানা পাটেকরের বড় ধরনের সংঘাত ঘটে। একটি সিরিয়াস দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় পরিচালকের নির্দেশনা পছন্দ না হওয়ায় নানা এতটাই রেগে যান যে, তিনি সেটের মধ্যেই বিধু বিনোদ চোপড়ার শার্টের কলার ধরে বসেন। এই মারমুখী কাণ্ড দেখে পুরো সেটে হঠাৎ ঝড় ওঠে। তবে মজার বিষয় হলো, পরবর্তীতে এই সংঘাতের পরও সিনেমাটির কাজ বন্ধ হয়নি এবং নানার সেই মারকুটে গ্যাংস্টার চরিত্রটিই তাঁকে প্রথম জাতীয় পুরস্কার এনে দেয়।
সহ-অভিনেত্রীকে সত্যি সত্যি চড় মারা!
১৯৯৭ সালের অ্যাকশন-ড্রামা ছবি যশবন্ত-এর একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর তাঁর সহ-অভিনেত্রী মধুকে (Madhoo) কোনো পূর্বাবাস ছাড়াই দৃশ্যটিকে বাস্তবসম্মত করতে সেটের মাঝেই সত্যি সত্যি চড় মেরে বসেন! মধুও পেশাদার সীমানা লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে নানাকে পাল্টা চড় মারেন। এই ঘটনাটি তখন বলিউডের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।
'#MeToo' আন্দোলনের সূত্রপাত
বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঝড় তোলা ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালে, যখন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত ২০০৮ সালের একটি সিনেমার সেটে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও হেনস্থার অভিযোগ আনেন। এই অভিযোগের হাত ধরেই ভারতে '#MeToo' আন্দোলনের জোয়ার শুরু হয়, যা পুরো বিনোদন দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। নানা অবশ্য শুরু থেকেই এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আসছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে নানার বিরুদ্ধে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়।
'ওয়েলকাম' ছবির আইকনিক "আলু লেলো" ডায়ালগের জন্ম
২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার কমেডি ছবি ওয়েলকাম-এ ডন উদয় শেঠির চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় ছিল এক কথায় অনবদ্য। এই ছবির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও মিম-ফেভারিট দৃশ্য হলো - যেখানে নানাকে রাস্তায় ঠেলাগাড়ি নিয়ে "আলু লেলো, কান্দা লেলো" (আলু নিন, পেঁয়াজ নিন) বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। সম্প্রতি একটি রিয়্যালিটি শো-তে (কেবিসি ১৬) নানা প্রকাশ করেন যে, এই সংলাপটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা স্ক্রিপ্টের অংশ ছিল না। দৃশ্যটির শুটিংয়ের সময় তিনি সম্পূর্ণ নিজের মতো করে (ইম্প্রোভাইজড) এই সংলাপটি দেন, যা পরিচালক আনিস বজমীর এতই পছন্দ হয় যে তিনি তা সিনেমায় রেখে দেন।
১.৫ কোটির লাক্সারি গাড়ি বাতিল করে কৃষকদের পাশে
পর্দার বাইরে নানার মানবিক রূপের নেপথ্যে একটি দারুণ গল্প রয়েছে। একবার তিনি নিজের জন্য প্রায় দেড় কোটি রুপি মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই মহারাষ্ট্রে খরার কারণে কৃষকদের একের পর এক আত্মহত্যার খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিলাসবহুল গাড়ি কেনার পরিকল্পনা বাতিল করেন এবং সেই পুরো অর্থ খরা-পীড়িত কৃষক পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য বিলিয়ে দেন তিনি। এই ঘটনাই পরবর্তীতে তাঁকে বিখ্যাত 'নাম ফাউন্ডেশন' গড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল।
'নাম ফাউন্ডেশন' (NAAM Foundation)-এর মানবিক কার্যক্রম
পর্দার বাইরে নানা পাটেকর একজন বড় মানবিক মানুষ ও সমাজসেবক ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি 'নাম ফাউন্ডেশন' (NAAM Foundation) প্রতিষ্ঠা করেন, যা মহারাষ্ট্রের খরা-পীড়িত ও ঋণগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনে কাজ করে আসছে।
নানা পাটেকর এবং আরেক জনপ্রিয় মারাঠি অভিনেতা মকরান্দ আনাসপুরে যৌথভাবে অলাভজনক এই ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠা করেন। মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াদা ও বিদর্ভ অঞ্চলে তীব্র খরা এবং ঋণের দায়ে জর্জরিত কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা নানা পাটেকরকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। এই ফাউন্ডেশন কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে।
ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক কাজ ছিল যেসব দরিদ্র কৃষক ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। মৃত কৃষকদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা। নাম ফাউন্ডেশন হাজার হাজার বিধবা ও তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সেলাই মেশিন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থা করেছে।
পানির চরম সংকটে থাকা ধোন্দলগাঁও, গোগালগাঁও, কুতুবখেদার মতো বেশ কিছু গ্রামকে এই ফাউন্ডেশন সম্পূর্ণ দত্তক নেয়। ট্যাঙ্কারের পানির ওপর নির্ভরশীল এই গ্রামগুলোতে স্থায়ী পানির ব্যবস্থা করে সেগুলোকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর গ্রামে রূপান্তর করা হয়েছে।
নাম ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো পানির সংকট দূরীকরণ। তারা বিশাল জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় নদী ও খাল পুনরুজ্জীবিত (যেমন ওয়ার্ধার ধাম নদ) করেছে। শত শত কিলোমিটার নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে তারা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ফিরিয়ে এনেছে, যা লাখ লাখ কৃষকের চাষাবাদে নতুন জীবন দিয়েছে।
কৃষকদের পাশাপাশি দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা ১০২ জনেরও বেশি সেনা শহীদের পরিবারকে বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান ও সম্মাননা প্রদান করেছে এই ফাউন্ডেশন।
নানা পাটেকর তাঁর সিনেমা ও বিভিন্ন শো থেকে অর্জিত আয়ের একটি বিশাল অংশ (কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০% পর্যন্ত) সরাসরি এই ফাউন্ডেশনে দান করে দিতেন। কোনো প্রচারের আলো বা ঢাকঢোল না পিটিয়ে সম্পূর্ণ নীরবে মাটি-মানুষদের জন্য কাজ করে গেছেন তিনি।
- `সিনেমা আমার পেশা, লাইফস্টাইল নয়`
নিজ জমিতে চাষ করতেন নানা পাটেকর - চলচ্চিত্রের এ শূণ্যতা পূরণ হবে কি?
ঝড় তোলা এক অনন্য নানা - নীরব ঘাতক ডায়াবেটিস: যেভাবে প্রতিরোধ করবেন
- মেসির পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পাচ্ছেন কে?
- গঙ্গা পানি চুক্তি ‘ত্রুটিপূর্ণ’, হালনাগাদ জরুরি
- রসায়নে নোবেল পেলেন অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই
- দুর্গোৎসব শুরু ১৬ অক্টোবর: উৎসবে নতুন মাত্রা বাড়তি ছুটি
- নতুন ১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি বিমানের
- অনেকেই বিয়ে করতে ভয় পায় কেন?
- প্রতিদিন হাততালি দিলে যে ৫ উপকার মিলবে
- পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
- ২০২৭ সালে চতুর্থ-ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি অধ্যায়ের সমাপ্তি
- ডেঙ্গু: এডিস মশা সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা জরুরি
- যেসব কারণে হঠাৎ ওজন বেড়ে যায়
- ভুট্টার পুষ্টিগুণ জানলে অবাক হবেন
- ১৭০০ ফুট উচ্চতায় সাজেক ভ্যালির মসজিদে মুগ্ধ পর্যটক
- সালমান শাহ হত্যা: খলনায়ক ডনের জামিন নাকচ
- ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
- যেসব কারণে ঘুরে ঘুরে প্রীতি ম্যাচ খেলে ব্রাজিল
- যেসব উপায়ে ৩০ সেকেন্ডেই দূর হবে দুশ্চিন্তা
- আমুসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই অভিযোগপত্র
- এলপিজির দামে বড় লাফ
- অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
- শায়েস্তা খানের আমলে সত্যিই কি টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত?
- কলার খোসা ছাড়ানোর আগে ধুয়ে নেবেন অবশ্যই
- গয়না ছাড়াও যেসব কাজে ব্যবহার হয় সোনা
- ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ
- শামিমার হস্তশিল্পে ঘুচছে ৩০ নারীর বেকারত্ব
- কলার খোসা ছাড়ানোর আগে ধুয়ে নেবেন অবশ্যই
- যেসব উপায়ে ৩০ সেকেন্ডেই দূর হবে দুশ্চিন্তা
- গয়না ছাড়াও যেসব কাজে ব্যবহার হয় সোনা
- ৪৯তম বিসিএসে গোপালগঞ্জের ১১ প্রার্থীর ৯ জন বাদ
- এশিয়ান গেমস: সোনার স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের
- সকালের রোদের আশ্চর্যজনক উপকারিতাগুলো জেনে নিন
- যেসব কারণে ঘুরে ঘুরে প্রীতি ম্যাচ খেলে ব্রাজিল
- অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
- রোজার আগে ২ হাজার ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির
- এআই প্রতিযোগিতায় জেমিনির নতুন মডেল
- আমুসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই অভিযোগপত্র
- মিষ্টির আসন শূন্য হচ্ছে, পদ হারাচ্ছেন না নজরুল: অ্যাটর্নি জেনারেল
- জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার
- এলপিজির দামে বড় লাফ
- যেসব কারণে হঠাৎ ওজন বেড়ে যায়
- ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ
- সালমান শাহ হত্যা: খলনায়ক ডনের জামিন নাকচ
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি অধ্যায়ের সমাপ্তি
- চলচ্চিত্রের এ শূণ্যতা পূরণ হবে কি?
ঝড় তোলা এক অনন্য নানা - শামিমার হস্তশিল্পে ঘুচছে ৩০ নারীর বেকারত্ব















