ঢাকা, ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
১৭

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:১৫ ১২ অক্টোবর ২০২৬  

যুক্তরাজ্য সরকারের কড়া ভিসানীতি আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে-এমন আশঙ্কায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তির অফার বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রিটিশ পত্রিকা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ১০.৫ শতাংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২.৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল ০.৪ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ডেটা বিশ্লেষণ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০.৯ শতাংশে; গত বছরের একই সময়ে এই যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ১.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পন্সর করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নিয়মকানুন আরও কঠোর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ করা মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর ৫ শতাংশের বেশি ভিসা আবেদন প্রত্যাহার করা হয়, তবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর লাইসেন্স হারাতে পারে। আগে এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের সীমা ছিল ১০ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তারা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক ভর্তির অফার বাতিল করছে, যার ফলে ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের ঘটনাও বাড়ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার বা ভর্তির অনুমতি পাওয়ার পরেই স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় অফার ফিরিয়ে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই ভিসা আবেদন প্রত্যাহার হয়ে যায়।

আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সান্ডারল্যান্ড, চেস্টার, উলভারহ্যাম্পটন, ইস্ট লন্ডন, কভেন্ট্রি, হার্টফোর্ডশায়ার, অক্সফোর্ড ব্রুকস, গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান এবং বিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়।

অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আবেদনকারীদের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে নাইজেরিয়া ও ভারতের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়মপালন যাচাইপ্রক্রিয়া চালু করেছে।

যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, এই কড়া নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার রোধ করা। বিশেষ করে যারা স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে এসে পরবর্তীতে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থনা করে কিংবা অবৈধ কাজে যুক্ত হয়, তাদের থামানো।

প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টিউশন ফি বাবদ আয় ছিল ১২.৪ বিলিয়ন পাউন্ড, যা যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতের মোট আয়ের ২৩ শতাংশ। একই শিক্ষাবর্ষে ইংল্যান্ডের সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থাৎ মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ শতাংশ ঘাটতিতে পরিচালিত হচ্ছিল।

ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা দীর্ঘস্থায়ীভাবে হ্রাস পেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে, কর্মসংস্থান হ্রাস করতে হবে, পাঠ্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসকে একীভূত করতে হবে।