ঢাকা, ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
২৮

বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৪৮ ১৩ অক্টোবর ২০২৬  

৪৭৯ রানের লক্ষ্য। টেস্ট ইতিহাসে এত বিশাল রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কারও। ৪৭৮ রানের লিড পাওয়ার পর বাংলাদেশও ভেবেছিল নিশ্চিত জয়ের কথা। কিন্তু সেটি হলো না। 

বাংলাদেশের মুখ থেকে যেন কেড়ে নিল আফগানিস্তান। নিশ্চিত হারের ম্যাচ দুর্দান্ত প্রতিরোধে ড্র করেছে আফগানরা। আবুধাবিতে মঙ্গলবার পঞ্চম ও শেষ দিনে রোমাঞ্চ জাগিয়ে ড্র হয়েছে সিরিজের একমাত্র টেস্ট।

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান। হার এড়াতে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ ওভার ব্যাট করেছে স্বাগতিকেরা। ম্যাচ বাঁচাতে চতুর্থ ইনিংসে এটিই চতুর্থ সর্বোচ্চ ওভার ব্যাটিং। 

আফগানদের জন্য এই ড্র যেন জয়ের সমান। স্মরণীয় ড্রয়ের পর সেটিই জানিয়েছেন রহমত। ম্যাচ শেষে তার থেকে জিজ্ঞেস করা হয় ‘এই ড্র কি আপনাদের কাছে জয়ের সমান?’ উত্তরে আফগানিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই। আমার কাছে এটি জয়ের মুহূর্ত। পাঁচ দিন ধরে আমরা যেভাবে বোলিং ও ব্যাটিংয়ে লড়াই করেছি, তাতে এই ফল বিশেষ কিছু।’ 

অন্যদিকে খুব কাছে গিয়েও জেতা হলো না বাংলাদেশের। শেষ দিকে কায়েস আহমেদের ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস জয় বঞ্চিত করেছে সফরকারীদের। ১২ বলে কোনো রান নিয়েও তাকে দারুণ সঙ্গ দেন লেজের ব্যাটার জিয়া-উর-রহমান। 

অথচ অষ্টম উইকেট হিসেবে যখন ইয়ামিন আহমেদজাই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফেরেন, তখন আফগানদের রান ৩২৬। দিনের আরও কয়েক ওভারও বাকি। এমন নয় যে, শেষ দুই উইকেট নেওয়া অসম্ভব ব্যাপার। 

কিন্তু দিনের শুরু থেকে আফগানরা যে প্রতিরোধ দেখিয়েছে, সেটি শেষবেলা পর্যন্ত টিকে ছিল। ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল যেভাবে লড়ে গেছেন শুরু থেকে, শেষভাগে তার পরিপূর্ণতা দিলেন কায়েস।

চতুর্থ দিনে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল আফগানিস্তান। বাংলাদেশ দিন পার করেছিল জয়ের আশা নিয়ে। আফগানরা পঞ্চম দিন শুরু করে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে। 

ওপেনার আতাল ৩৫ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি ১৯ রান রান ব্যাটিংয়ে নামেন। সেই জুটি বেশিদূর এগোনোর সুযোগ পায়নি। দিনের তৃতীয় ওভার চলাকালে ব্যক্তিগত ২০ রান নিয়ে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে ফেরেন শহীদি।

বাংলাদেশি ফিল্ডারের ছুড়ে দেওয়া বল লাগে তার হাঁটুতে। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও ডান পায়ে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন শহীদি। তবে মিরাজের বলে ইসমত আলম (৪) আউট হওয়ার পর আবারও ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। আর দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে শহীদি আবারও সাজঘরে ফেরেন ৩৬ রান করে। তার উইকেটটিও নেন মিরাজ।

আগের দিনের সতীর্থকে হারালেও কচ্ছপ গতির ব্যাটিংয়ে সফরকারী দলের সামনে যেন দেয়াল তুলতে থাকেন আতাল। উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলের সঙ্গে জুটি গড়ে সকালটা সামাল দেন তিনি। তবে লাঞ্চের আগেই ভাঙে পঞ্চম উইকেটে ৬৬ রানের সেই জুটি। উড়ন্ত লিটন দাস গ্লাভসবন্দী করেন আলিখিলকে। 

তবে অস্বস্তির কারণ হয়ে ছিলেন আতাল। দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চা বিরতি থেকে ফেরার পর তাইজুল ইসলাম ভাঙেন তার প্রতিরোধ। 

আতালের ৩৩২ বলে ১১১ রানের ম্যারাথন ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৩ ছক্কা। ইনিংসের ১১৯ম ওভারে তানজিদ হাসান তামিমকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আতালের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। আর প্রথম আফগান হিসেবে টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে তিন অঙ্কের রানের দেখা পেলেন তিনি। 

হাসান মাহমুদের করা ইনিংসের ৯৭তম ওভারের শেষ বলে চার মেরে সেঞ্চুরির উদযাপন করেন আতাল। তার জন্য লেগেছে ২৭৭ বল।

সপ্তম উইকেট হিসেবে আতাল ফেরার পর জয়ের সম্ভাবনা আরও হয়ে ওঠে বাংলাদেশের। কিন্তু সেই আশায় গুঁড়েবালি। আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংসে সমান তিন উইকেট পেয়েছেন ইবাদত ও মিরাজ। 

প্রথম ইনিংসে ফিফটি ও দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন দাস। সঙ্গে করেছেন রেকর্ড ৯ ডিসমিসাল। তার মধ্যে ৮টি ক্যাচ করেছেন গ্লাভসবন্দী। 

বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। এর আগে প্রথম ইনিংসে করে ৩৪৬ রান। আর আফগানিস্তান করে ২৪০। 

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর