ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার, ২০২৬ || ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

পতনের নতুন স্তরে পাকিস্তান ক্রিকেট, ওয়াসিম-আফ্রিদিদের উদ্বেগ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হলো পাকিস্তান। পতনের নতুন স্তরে দেশের ক্রিকেটকে নামতে দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা।

গত ৫০ বছরে ইংল্যান্ডে সফরকারী সবচেয়ে বাজে পাকিস্তান দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বাবর আজমরা। দলের বিপর্যয়ের মাশুল টেনে দুই ম্যাচ শেষেই বাদ পড়েন সাত খেলোয়াড় ও দুই কোচ। এই সফরে ছয় ইনিংস খেলে পাঁচবারই দুইশর নিচে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। সাদা বলের কোচ মাইক হেসন শেষ টেস্টের দায়িত্ব নিলেও দলের ভাগ্য ফেরেনি। 

শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই পাকিস্তানের দুঃসহ অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ থাকেনি। দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম উল হককে দাঁড়াতে হয়েছে সাইবার ক্রাইমের তদন্তকারীদের সামনে। এমন সব ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আফ্রিদিরা।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আকরাম বলেছেন, এমন অধঃপতনের অনুমান তিনি আগেই করেছিলেন। এএফপি-কে তিনি বলেন, ‘এটি একটি হতাশাজনক পরিস্থিতি। কিন্তু আমি পাঁচ বছর ধরেই দেখতে পাচ্ছিলাম এমন কিছু হতে যাচ্ছে। শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি বিষয়কে দোষ দেওয়া যাবে না, এর পেছনে অনেক কারণ আছে।’

তার সাবেক সতীর্থ আফ্রিদি এই পরিস্থিতি নিয়ে বললেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন বিষণ্ণ সময় কাটছে। এভাবে আপনি খেলোয়াড়দের অসম্মান করতে পারেন না এবং আপনাদের ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী না।’

পরাজয়ের পর পরিবর্তন পাকিস্তানের ক্রিকেটে নতুন নয়। শেষ তিন বছরে টেস্টে তিন অধিনায়ক ও ছয় প্রধান কোচের নিয়োগ হয়েছে। পাঁচ বছরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে এসেছেন পাঁচজন ভিন্ন চেয়ারম্যান। পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতার অভাব দেশটির ক্রিকেট উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পরিবর্তনের মাঝে খেলোয়াড়দের  শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলেছে।

২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাকিস্তান ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর তৎকালীন অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ ও সিনিয়র ব্যাটার ইউনিস খানকে নিষিদ্ধ করেছিল বোর্ড। আফ্রিদিসহ আরও পাঁচ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়।

এবার এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে তৃতীয় টেস্টে হারটি ছিল পাকিস্তানের শেষ ২১ ম্যাচে ১৬তম। যার প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে। গত চক্রের মতো এবারও তারা নবম স্থানেই শেষ করার শঙ্কায়।

সাদা বলের ক্রিকেটের ফলও আহামরি কিছু নয়। গত বছর ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়েছিল। টি-টোয়েন্টিতে! ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ। দুই বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হতবাক করা হারে তৈরি হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পথ।

সাবেক লেগ স্পিনার ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী মুশতাক আহমেদ পরিকল্পনার অভাবকে এই পতনের জন্য দায়ী করলেন। তিনি এএফপি-কে বলেন, ‘আমাদের অনেক ম্যাচ জয়ী খেলোয়াড় ও শক্তিশালী ঐতিহ্য ছিল এবং এ কারণে অতীতে আমরা ম্যাচ জিততাম। কিন্তু এখন অবনতি কঠিন পর্যায়ে, ঠিক হতে সময় লাগবে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার যোগ্য ক্রিকেটার তৈরি হচ্ছে না শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ ঘরোয়া ব্যবস্থার কারণে। খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন না আকরাম, ‘আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে লাল বলের ক্রিকেটে আমাদের প্রতিভার ঘাটতি আছে। সাদা বলের দলগুলো ঠিক আছে। পিসিবির চেয়ারম্যানকে দোষ দেওয়া সহজ কিন্তু যখন আমরা ঘুমিয়ে এবং সমস্যার সমাধানে কাজ করছি না, তখন এই ধরনের পতন স্বাভাবিক।’

ভক্তরাও দ্রুত ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে মনে করেন মোহাম্মদ আফজাল। পেশায় এই ব্যাংকার বললেন, ‘আমার চার ছেলের সবাই এবং আমি স্থানীয় অ্যাকাডেমিতে ক্রিকেট খেলতাম। কিন্তু গত দুই বছর ধরে আমরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি কারণ আমাদের দল ভালো করছে না। পাকিস্তানে ক্রিকেট দ্রুত জৌলুস হারাচ্ছে এবং গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমাদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর