ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, ২০২৬ || ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

৯/১১ পরবর্তী বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে ৯৪০০ জনের মৃত্যু

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৫৩ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

২৫ বছর আগে এই দিনে (১১ সেপ্টেম্বর) পর পর চারটি বিমান হামলায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ধসে পড়েছিল টুইন টাওয়ার। এতে তাৎক্ষণিক ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। লোমহর্ষক এই ঘটনায় পুরো দুনিয়া কেঁপেছিল। পরে গোটা বিশ্বই বদলে গিয়েছে। 

কিন্তু এর পরবর্তী বছরগুলোয় ওই এলাকায় বিষাক্ত বাতাস সম্পর্কে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

অথচ ৯/১১ হামলা পরবর্তী বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে এসে বিভিন্ন অসুস্থতায় ৯ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। নথিগুলো প্রকাশকালে এক বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। 

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর নগর কর্তৃপক্ষ বাতাসের বিষাক্ততা সম্পর্কে যত তথ্য জানত। কিন্তু সব প্রকাশ করেনি। এবার সে সংক্রান্ত কয়েক হাজার নথি প্রকাশ করা হলো।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্কের হামলায় ৯০টি দেশের নাগরিক প্রাণ হারান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭৫৩ জন মারা যান নিউইয়র্কে। পেন্টাগনে ১৮৪ ও পেনসিলভানিয়ায় ৪০ জনের মৃত্যু ঘটে।

এই সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে গত মঙ্গলবার এসব নথি প্রকাশ করা হয়। মোট ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথির সব তথ্য আগামী ১২ মাসে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। এসব নথিতে অনলাইনে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বায়ুর মান এবং হামলার পর নগর কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। 

ফেডারেল সরকারের একটি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী বছরগুলোতে নিউইয়র্ক এলাকায় বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ৯ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন।

তিনি বলেন, “গ্রাউন্ড জিরোর আশপাশের বিষাক্ত বাতাস সম্পর্কে নগর কর্তৃপক্ষ কী জানত, কখন জানত এবং দায় এড়াতে তারা কীভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিল এসব নথিতে তার প্রমাণ রয়েছে।”

ভুক্তভোগীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘৯/১১ হেলথ ওয়াচ’-এর সঙ্গে করা একটি সমঝোতার আওতায় নথিগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে। সংগঠনটি আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এসব নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে নগর কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করার উদ্যোগ নিয়েছিল।

সংগঠনটির পরিচালক বেঞ্জামিন শেভাট বলেন, “গত ২৫ বছর ধরে নিউইয়র্কের চারটি মেয়র প্রশাসন নথিগুলো জনগণ, মার্কিন কংগ্রেস এবং সিটি কাউন্সিলের কাছ থেকে গোপন রেখেছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধসের পর লোয়ার ম্যানহাটন ও পশ্চিম ব্রুকলিনে বিষাক্ত রাসায়নিকের ঝুঁকি সম্পর্কে নগর কর্তৃপক্ষ জ্ঞাত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে এতে। অথচ সেখানকার বাতাস ‘নিরাপদ ও গ্রহনযোগ্য’ বলে সবাইকে বলে এসেছে নগর কর্মকর্তারা।” 

জনগণের কাছ থেকে তথ্য গোপন রাখা কর্মকর্তাদের নাম জানতে চাইলে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কের মানুষ যাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তাদের অনেকের সঙ্গেই এর সম্পর্ক রয়েছে।”

তিনি বলেন, “মানুষ অসুস্থ হয়েছে, কারণ যে নেতাদের ওপর তারা আস্থা রেখেছিল তারাই মিথ্যা বলেছে। বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠলেও তারা জানিয়েছিল তা নিরাপদ।” 

এদিকে সব নথির তথ্য প্রকাশ হলে নিউইয়র্কের সাবেক দুই মেয়রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। হামলার সময় মেয়রের দায়িত্বে থাকা রুডি জুলিয়ানি এবং পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করা মাইকেল ব্লুমবার্গ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। 

নিউইয়র্ক সিটির প্রধান আইন কর্মকর্তা স্টিভেন ব্যাংকস বলেন, “কিছু নথিতে সে সময় জুলিয়ানির প্রশাসনের মধ্যে সম্ভাব্য আইনি দায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।”

বিশ্ব বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর