ঢাকা, ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ২৯ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৫৬৪

৬৪ জেলায় নদী, খাল ও জলাশয় খনন শুরু

প্রকাশিত: ১৪:৩১ ২২ জানুয়ারি ২০১৯  


রিপন দাস, বগুড়া : দেশের ৬৪ জেলায় খাল, জলাশয় ও ছোট নদীগুলোর নাব্য বৃদ্ধি, পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে ব-দ্বীপ প্রকল্প ২১০০ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি নিশ্চিত হবে দীর্ঘমেয়াদী পানি ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য নিরাপত্তা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড দুই বছর মেয়াদী এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে গত বছর।

গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে : উপকূলীয় এলাকা, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম, নদী ও মোহনা এবং নগর অঞ্চল।   
জলবায়ু পরিবর্তনসহ একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা। 

প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৮৮টি ছোট নদী, ৩৫২টি খাল ও ৮টি জলাশয় খননের আওতায় রয়েছে। এর ফলে ৫ লাখ ২০ হাজার হেক্টর এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। ফসলী জমিতে সেচের সুবিধা পাবে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমি। আর এর ফলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এ ছাড়াও নৌ-চলাচলের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের এমন উদ্যোগ সম্পর্কে অনেকেই সদুবাদ জানিয়েছেন। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের দাবী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে কৃষি ক্ষেত্রে।
শাজাহানপুর উপজেলার চকজোড়া গ্রামের রমজান আলী জানান, ভদ্রাবতী নদী খনন সম্পন্ন  হলে আমাদের চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ বাড়বে। সহজেই জমিতে পানি দিতে পারবো। তিনি আরো বলেন, আমার বাব-দাদারা এ নদী থেকে পানি নিয়ে কৃষি কাজ করতো। আর এখন নদীতে পানিতো দূরের কথা খালও বোঝা যায় না। তবে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে নদী আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসুক আমাদের এ আশা। তবে তিনি বলেন, খননের মাটি কৃষি জমিতে ফেলার কারণে নদীর দুই পাশে বহু জমি নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটি ব্যবস্থা গ্রহন করেন তাহলে সাধারণ মানুষের বহু জমি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।   
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর আওতায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ছোট নদী, খাল ও জলাশয় খননের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ খননের ফলে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। আর এসব পুনঃখনন করা হলে নদী এবং খালে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়বে। ভূ-পৃষ্ঠে পানি সরবরাহ থাকার কারণে ইরিগেশনের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ দিতে পারবো। একই সাথে ভূ-গর্ভস্থ পানির পর্যাপ্ত ব্যবহারের পাশাপাশি বাস্তুসংস্থানের পুনঃজীবনের সম্ভব হবে। এর ফলে পরিবেশের উপর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে বগুড়াতেই ১০টি নদী ও খাল খনন করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা থাকবে।
শত বর্ষের ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বলা হয়েছে ৬৪টি জেলার ৩৭৫টি উপজেলা ও ২টি সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৪ হাজার ৮৭ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়নপূর্বক উন্নয়নের ধারা টেকসইভাবে সমুন্নত রাখতে কৃষি, পানি ও পরিবেশকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশের তালিকায় মর্যাদা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

 


এই বিভাগের আরো খবর