ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১২৪

পদত্যাগে অস্বীকৃতি মমতার, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৫৩ ৭ মে ২০২৬  

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয় হলেও তা মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরাজয়কে স্বীকৃতি না দিয়ে তিনি রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রাজ্যটিতে এক দিনের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে বলে মনে করছেন ভারতীয় আইন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরাজয় নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলায় এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

একই সময়ে তামিলনাড়ুতেও ডিএমকে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেখানেও নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি। তবে বাংলার সঙ্গে পার্থক্য হলো- পরাজয়ের পর এম কে স্ট্যালিন পদত্যাগ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় বাংলায় সেই সুযোগ থাকছে না।

রাত ১২টার পর কী ঘটবে?
সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। এরপর এক মিনিটও বিদায়ী সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। 

অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব ঘোষণা করেছেন তারা শনিবার রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে শপথ নেবেন। ফলে শুক্রবারের এই ২৪ ঘণ্টা রাজ্যে কোনো বৈধ সরকার থাকছে না।

ভারতীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে ব্যতিক্রমীভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।

প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল মমতার পদত্যাগ দাবি করতে পারেন। তিনি পদত্যাগ করলে রাজ্যপাল তাকে কেয়ারটেকার হওয়ার অনুরোধ জানাতে পারতেন, কিন্তু তিনি ইস্তফা না দিলে রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনি কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল নবনির্বাচিত ২৯৩ জন বিধায়কের তালিকা রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।