ঢাকা, ২৭ মার্চ শুক্রবার, ২০২৬ || ১৩ চৈত্র ১৪৩২
good-food
৩২

মহাসড়কেই শেষ পরিবারের সব স্বপ্ন, পাশাপাশি ৪ কবর

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৫০ ২৭ মার্চ ২০২৬  

ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি পরিবারের সব স্বপ্ন। কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মাদরাসা শিক্ষক মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। 

ঘাতক বাসের ধাক্কায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যাওয়া এই পরিবারটির চার সদস্যকে শুক্রবার দাফন করা হবে শ্বশুরবাড়ির কবরস্থানে, যেখানে পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে ৪ কবর।

শুক্রবার বাদ জুমা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামের বশাহাজী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই চারজনকে পাশাপাশি সমাহিত করা হবে। ইতোমধ্যে কবর খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছে। মরদেহবাহী গাড়িগুলো কবরস্থানের পাশে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ঝরনা বেগম, মেয়ে লাবিবা ও ছোট ছেলে সাইফ। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেনও। 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল মমিনের আরেক ছেলে আবরার বর্তমানে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুফতি আব্দুল মমিন ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক মমিন ঈদের ছুটিতে সপরিবার গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। 

সেনবাগের ছাতারপাইয়া গ্রামে নিজের ঘর না থাকায় জেলা শহর মাইজদীতে শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। পথে স্টার লাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান পরিবারের চার সদস্য।

নিহত মমিন সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়ির মৃত ইউনুস মুন্সীর ছেলে। নিজের এলাকায় ঘর না থাকায় তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে লক্ষ্মীপুরে শ্বশুরবাড়িতে।

সেনবাগ থানার ওসি মো. আবুল বাশার জানান, মর্মান্তিক খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেছে। একই পরিবারের চার সদস্যের অকাল মৃত্যুতে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর দুই জেলাতেই এখন শোকের মাতম চলছে।

বাংলাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর