ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১২৮

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন লিমন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৩৭ ৪ মে ২০২৬  

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তার মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে উপস্থিত শোকাহত পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নামের আরেক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। তাঁদের এক বন্ধু বিষয়টি প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কয়েকটি কালো রঙের ব্যাগের ভেতর থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। 

লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ওই ব্রিজের কাছাকাছি একটি ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশগুলো নিখোঁজ বৃষ্টির।

এই নির্মম জোড়া খুনের ঘটনায় মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালতের অভিযোগে তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।