ঢাকা, ০৩ জুলাই শুক্রবার, ২০২৬ || ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
২৯

শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ ১৫ শিক্ষার্থীর

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫১ ৩ জুলাই ২০২৬  

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে অবশেষে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন নাটোরের ৮ জন এবং বগুড়ার ৭ জনসহ মোট ১৫ জন পরীক্ষার্থী।

ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ ও কারিগরি ভুলের কারণে গতকাল প্রথম দিনের পরীক্ষায় বসতে না পারা এই শিক্ষার্থীরা আগামীকাল শনিবার থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

এদিকে, নাটোরের লালপুরে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পরও গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিলেও তা বোর্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করায় তাদের প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি। গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসে।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীর সাথে কথা বলেন এবং বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রীর নির্দেশে আজ শুক্রবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থায় ওই ৮ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ফলে আগামীকাল শনিবার থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরবর্তী সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। মন্ত্রী বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক এবং লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন।

 মন্ত্রীর নির্দেশনার পর পুলিশ অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করেও কলেজ কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলের কারণে গতকাল পরীক্ষা দিতে না পারা একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ মন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়। এর পাশাপাশি, বগুড়ার মহাস্থানগড়ের আরও ৬ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে মন্ত্রীর নজরে আসে।

শিক্ষামন্ত্রী তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে ফোনে কথা বলে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে বলেন। মন্ত্রীর নির্দেশে আজ বগুড়ার ওই ৭ জন শিক্ষার্থীরও ফরম পূরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তারাও আগামীকাল থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।