ঢাকা, ২৮ জুন রোববার, ২০২৬ || ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

টানা ৯০ দিন চা না খেলে শরীরে কী ঘটবে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:০৩ ২৮ জুন ২০২৬  

দিনের শুরুতে এক কাপ চা না খেলে যেন কাজই করতে পারেন না। অফিসে চাপ, চাই চা। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় চা মাস্ট, সঙ্গীর সঙ্গে ডেটে গিয়েও চা। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, যদি টানা তিন মাস এই সাধের চা পান বন্ধ করেন, তাহলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে? 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন বহুবার চা পান করেন, তাঁদের শরীর প্রথমে ক্যাফিনের অভাবে কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীর নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং ঘুম, শক্তির মাত্রা ও দৈনন্দিন অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

প্রথম ১-২ সপ্তাহে কী হতে পারে?

যাঁরা নিয়মিত চা পান করেন, তাঁদের জন্য প্রথম দুই সপ্তাহ কিছুটা কঠিন হতে পারে। ক্যাফিনের অভাবে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বিরক্তি, মনোযোগের অভাব এবং বার বার চা খাওয়ার ইচ্ছা দেখা দিতে পারে। তবে এগুলি সাধারণত সাময়িক সমস্যা। কয়েকদিন পর শরীর ধীরে ধীরে ক্যাফিন ছাড়াই স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে শুরু করে, এই উপসর্গগুলিও কমে আসে।

তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে কী পরিবর্তন দেখা যায়?

প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর অনেকেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করেন। সারাদিন শক্তির মাত্রা তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল থাকে এবং ক্যাফিনের কারণে যে হঠাৎ এনার্জি বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তা কমে যায়। পাশাপাশি চা খাওয়ার তীব্র ইচ্ছাও অনেকটাই কমে আসে।

ঘুমের উপর কী প্রভাব পড়ে?

চায়ে থাকা ক্যাফিন অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, বিশেষ করে বিকেল বা রাতে চা পান করলে। তাই চা কমিয়ে দিলে বা সম্পূর্ণ বন্ধ করলে অনেকের ঘুম দ্রুত আসে এবং ঘুমের মানও উন্নত হয়। ভালো ঘুমের ফলে দিনের বেলা মনোযোগ, কর্মক্ষমতা এবং মানসিক অবস্থারও উন্নতি হতে পারে।

হজমের সমস্যায় উপকার মিলতে পারে

যাঁদের খালি পেটে দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চা ছাড়ার পর অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা কমতে পারে। তবে এই পরিবর্তন ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার উপরও নির্ভর করে।

৯০ দিন পর কী কী পরিবর্তন হতে পারে?

টানা তিন মাস চা না খেলে শরীর সাধারণত নতুন অভ্যাসের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেয়। অনেকেই জানান, তাঁদের ঘুম আরও গভীর হয়েছে, সারাদিন শক্তি স্থির থাকে, ক্যাফিনের প্রতি নির্ভরতা কমে যায় এবং দৈনন্দিন কাজের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে। অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ কমলে হার্টেরও উপকার হতে পারে। 

চা কি সম্পূর্ণ ছেড়ে দেওয়া জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারেই নয়। পরিমিত পরিমাণে চা পান করলে তা স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হতে পারে। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন সারাদিনে অনেক কাপ চা পান করা হয় বা ক্লান্তি কাটানোর একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে চা। তাই চা পুরোপুরি ছাড়ার পরিবর্তে নিজের খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর