ঢাকা, ২২ জুন সোমবার, ২০২৬ || ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

গরমে গ্যাস, অম্বল ও বদহজমের সমস্যা বাড়ে কেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৫১ ২২ জুন ২০২৬  

গরমে তাপমাত্রা যত বাড়তে থাকে সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব কিংবা খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এই সময়ে খুবই সাধারণ। কিন্তু কেন এমন হয়? আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ শরীরের হজমশক্তির দুর্বল হয়ে পড়া। অতিরিক্ত গরম, ঘাম, শরীরে জলের ঘাটতি এবং অনিয়মিত জীবনযাপন হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে শরীর খাবার ঠিক মতো হজম করতে পারে না এবং একাধিক শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত হয়।

কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হজমতন্ত্র?

আয়ুর্বেদে গরমকালকে এমন একটি সময় হিসেবে দেখা হয়, যখন স্বাভাবিক ভাবেই হজমক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। অতিরিক্ত ঘাম, ডিহাইড্রেশন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস পাকস্থলীর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে হজমতন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যায়। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, খাবার সঠিক ভাবে হজম না হলে শরীরে ‘আম’ নামক বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে শরীরে জমতে থাকে এবং নানা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কী কী সমস্যা হতে পারে?

হজমে গোলমাল হলে শুধু পেটের সমস্যাই নয়, গোটা শরীরই তার প্রভাব অনুভব করে। আয়ুর্বেদ বলছে, ‘আম’ জমার ফলে ক্লান্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল বিপাকক্রিয়া, অম্বল, গ্যাস এবং হজমজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। কারণ শরীরের প্রতিটি কোষ ও অঙ্গ পুষ্টি পায় হজমের মাধ্যমে। তাই সুস্থ হজমশক্তি বজায় রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও একমত যে ডিহাইড্রেশন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

হজমশক্তি ভালো রাখতে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস হজমশক্তি সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। পাশাপাশি ডাবের জল, ঘোল এবং লেবুর শরবত শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। হালকা ও টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত, ভাজাভুজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও বেদানার মতো জলসমৃদ্ধ ফল খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। এছাড়া অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থেকে নিজের হজমক্ষমতা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করাও জরুরি।

যোগব্যায়াম ও আয়ুর্বেদের শীতল উপাদান কতটা কার্যকর?

আয়ুর্বেদে যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং প্রাণায়ামের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শীতলী ও ভ্রমরী প্রাণায়াম শরীরের অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি সকালে হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত জীবনযাপন বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সহায়ক। গরমকালে অ্যালোভেরা, গোলাপ, খাস (ভেটিভার), গুলকন্দ, চন্দন ও গন্ড কাতিরার মতো প্রাকৃতিক শীতল উপাদান ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান এবং ঋতু অনুযায়ী জীবনযাপন মেনে চললে গরমের মধ্যেও হজমশক্তি সুস্থ রাখা সম্ভব।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর