ঢাকা, ১৬ জুন মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

স্মার্টওয়াচ কেনার সময় এড়িয়ে চলুন এই ভুলগুলো

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১২:৪১ ১৬ জুন ২০২৬  

বর্তমানে স্মার্টওয়াচ কেবল সময় দেখার যন্ত্র নয়, বরং এটি আমাদের স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে বিভিন্ন দামের ও ফিচারের স্মার্টওয়াচ পাওয়া যায়, যা আমাদের প্রায়ই বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। সঠিক স্মার্টওয়াচটি না বেছে নিতে পারলে আপনার টাকা যেমন বৃথা যেতে পারে, তেমনি স্বাস্থ্যের ভুল তথ্য আপনার দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

স্মার্টওয়াচ কেনার সময় সাধারণত আমরা যে ভুলগুলো করি—

স্মার্টফোনের সাথে সামঞ্জস্য যাচাই না করা

স্মার্টওয়াচ কেনার আগে সবচেয়ে বড় ভুল হলো সেটি আপনার স্মার্টফোনের সাথে চলবে কি না তা যাচাই না করা। যেমন, অ্যাপল ওয়াচ শুধুমাত্র আইফোনের সাথে কাজ করে। আবার স্যামসাং বা পিক্সেল ওয়াচের কিছু বিশেষ ফিচার অন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কাজ নাও করতে পারে। তাই কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে ঘড়িটি শতভাগ মানানসই কি না।

ব্যাটারি লাইফ নিয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা

অনেকেই মনে করেন সব স্মার্টওয়াচ ১০-১৫ দিন চার্জ থাকবে। মনে রাখবেন, ঘড়ি যত বেশি 'স্মার্ট' হবে (যেমন- কল করা, জিপিএস ব্যবহার বা অ্যাপ চালানো), তার ব্যাটারি তত দ্রুত শেষ হবে। অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম ঘড়িগুলো সাধারণত ১-২ দিনের বেশি চার্জ থাকে না। যদি আপনি বারবার চার্জ দেওয়া অপছন্দ করেন, তবে আমাজফিট বা হুয়াওয়ের মতো ঘড়িগুলো বেছে নিতে পারেন যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি দেয়।

ডিসপ্লের ধরন ও উজ্জ্বলতা খেয়াল না করা

সাশ্রয়ী স্মার্টওয়াচগুলোতে সাধারণত এলসিডি বা টিএফটি ডিসপ্লে থাকে, যা কড়া রোদে পরিষ্কার দেখা যায় না। সবসময় চেষ্টা করুন অ্যামোলেড (AMOLED) ডিসপ্লের ঘড়ি কিনতে। এতে 'অলওয়েজ অন ডিসপ্লে' সুবিধা পাওয়া যায় এবং এটি ব্যাটারিও সাশ্রয় করে। এছাড়া গ্লাসের গুণগত মান যাচাই করুন যাতে সহজেই দাগ বা স্ক্র্যাচ না পড়ে।

সেন্সরের নির্ভুলতা সম্পর্কে খোঁজ না নেওয়া

সস্তা অনেক স্মার্টওয়াচে হার্ট রেট বা এসপিও২ সেন্সর থাকলেও সেগুলো অনেক সময় নির্ভুল তথ্য দেয় না। এমনকি নির্জীব বস্তুর ওপর রাখলেও রিডিং দেখায়। আপনি যদি স্বাস্থ্যের তথ্য মনিটর করার জন্য ঘড়ি কেনেন, তবে নামী ব্র্যান্ডের ঘড়ি বেছে নিন। সস্তা ঘড়ির সেন্সর রিডিংয়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

কলিং ফিচারের মোহে পড়া

আজকাল অনেক কম দামি ঘড়িতে ব্লুটুথ কলিং ফিচার থাকে। কিন্তু মনে রাখবেন, সব ঘড়ির মাইক্রোফোন এবং স্পিকারের মান ভালো হয় না। এছাড়া কলিং ফিচার ব্যাটারি দ্রুত খরচ করে। আপনার যদি সত্যিই ঘড়ি দিয়ে কথা বলার প্রয়োজন না থাকে, তবে এই ফিচার বাদ দিয়ে ভালো বিল্ড কোয়ালিটির দিকে মনোযোগ দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স বা জলরোধী ক্ষমতা বুঝতে ভুল করা

প্রায় সব স্মার্টওয়াচেই 'IP68' বা '5ATM' রেটিং থাকে। অনেকেই মনে করেন এটি পরে যেকোনো জায়গায় সাঁতার কাটা যাবে। কিন্তু বাস্তবে IP67 বা IP68 রেটিং কেবল ঘাম বা হালকা বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয়। গভীর পানিতে বা লবণাক্ত পানিতে সাঁতার কাটার জন্য অবশ্যই '5ATM' বা তার বেশি রেটিং সমৃদ্ধ ঘড়ি প্রয়োজন।

স্ট্র্যাপ বা বেল্টের প্রাপ্যতা

অনেকে এমন আনকমন ব্র্যান্ডের ঘড়ি কেনেন যার স্ট্র্যাপ নষ্ট হয়ে গেলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। স্ট্যান্ডার্ড মাপের (যেমন- ২০ মিমি বা ২২ মিমি) স্ট্র্যাপ ব্যবহার করা যায় এমন ঘড়ি কেনা ভালো, যাতে পরবর্তীতে নিজের পছন্দমতো বেল্ট বদলে নেওয়া যায়।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফিচার কেনা

আপনি কি একজন অ্যাথলেট নাকি সাধারণ ব্যবহারকারী? যদি আপনি কেবল নোটিফিকেশন দেখতে চান, তবে দামী স্পোর্টস ওয়াচ বা জিপিএস ওয়াচ কেনার প্রয়োজন নেই। আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনের সাথে তাল মিলিয়ে বাজেট এবং ফিচার নির্বাচন করুন।

স্মার্টওয়াচ কেনার আগে কেবল ডিজাইন দেখে মুগ্ধ না হয়ে বরং সেটির কার্যকারিতা ও টেকসই হওয়ার দিকটি গুরুত্ব দিন। একটি ভালো স্মার্টওয়াচ আপনার জীবনকে সহজ করতে পারে, তাই কেনার আগে ইউটিউব রিভিউ দেখে এবং নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড বেছে নিয়ে আপনার বিনিয়োগটি সার্থক করুন।