ঢাকা, ০১ আগস্ট শনিবার, ২০২৬ || ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৩৭

হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৪৯ ৩১ জুলাই ২০২৬  

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আবেদন ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য অবহিত করা হয়েছে।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুরের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই সংসদীয় কমিটি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লোকসভায় প্রতিবেদন জমা দেয়। যেখানে কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ওপর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য উঠে এসেছে।

‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান আইন ও নিয়ম মেনে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আবেদন পর্যালোচনা করছে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশের করা আবেদনের পর পর্যালোচনার সার্বিক অগ্রগতি জানতে চেয়েছিল লোকসভার সংসদীয় কমিটি।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। এরপর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন।

হাসিনার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও হাসিনাকে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরও দিল্লিকে একই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভারত থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পাননি হাসিনা

ভারতে থাকা অবস্থায় হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন, বিবৃতি দিচ্ছেন ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তবে ভারত সরকারের দাবি, তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

লোকসভার সংসদীয় কমিটির মতে, তীব্র সংকট বা জীবনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের আশ্রয় দেওয়া ভারতের মানবিক ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিগত মূল্যবোধেরই অংশ।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বা কোনো সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাসিনাকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে দেওয়া হয়নি বলে সাফ জানিয়েছে দেশটির সরকার।

অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতি ভারত মেনে চলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারত সরকার যেন এই নীতিগত ও মানবিক অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও সংবেদনশীলতা বজায় রেখে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।