ঢাকা, ১৫ জুন সোমবার, ২০২৬ || ১ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

ফিফা বিশ্বকাপ: ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের মেশিন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৫০ ১৫ জুন ২০২৬  

একসময় বিশ্বকাপ ছিল মূলত একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান। এখন এটি বৈশ্বিক লাইভ স্পোর্টসের একধরনের ‘অপারেটিং সিস্টেম’-এ রূপ নিচ্ছে। ইয়াহু ফিন্যান্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দুর্দান্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে এটি প্রথম ‘এআই বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে। যেখান থেকে উপার্জিত হবে হাজার হাজার কোটি ডলার। 

ব্যাংক অব আমেরিকার (বিওএফএ) হিসাব অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালে ম্যাচ, খেলোয়াড়দের গতিবিধি, ভেন্যু, সম্প্রচার ও পরিচালনা সংক্রান্ত সরাসরি তথ্যের পরিমাণ ৯০ পেটাবাইটে পৌঁছাতে পারে। এটি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৪৫ গুণ বেশি।

মূল পরিবর্তনটি ঘটছে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামোর ভেতরে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮-এ বাড়ানো হয়েছে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিশ্বকাপ এখন একটি ‘লাইভ ডেটা প্রোডাক্ট’-এ পরিণত হচ্ছে। মাঠে প্রতিটি পাস, দৌড়, শট, বদলি, রিপ্লে, দর্শকদের চলাচল, স্ট্রিমিং কার্যক্রম এবং বাজি ধরার তথ্য একটি বিশাল ডেটা ব্যবস্থার অংশ হয়ে যাচ্ছে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বিশ্বকাপ এখন শুধু দেখা হচ্ছে না; এটি রিয়েল-টাইমে পরিমাপ, বিশ্লেষণ, সম্প্রচার, সম্পাদনা, বাজি ধরা এবং অপ্টিমাইজ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শুধু রিপ্লে বিশ্লেষণ বা কোচিংয়ের সহায়ক নয়; বরং পুরো টুর্নামেন্ট ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠছে।

বিওএফএ’র মতে, দলগুলো রিয়েল-টাইমে শত শত মিলিয়ন ফিফা ডেটা পয়েন্ট এবং ২ হাজারের বেশি পারফরম্যান্স সূচক বিশ্লেষণকারী এআই মডেলের সুবিধা পাবে। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি এবং এআই-চালিত কমান্ড সেন্টার ব্যবহার করে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত ১০৪টি ম্যাচে দর্শক চলাচল, নিরাপত্তা, পরিবহন ও সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আর এই অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল এক আয়-উৎপাদনকারী ব্যবস্থা।

বিওএফএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৬ চক্রে ফিফার মোট আয় ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০১৯-২০২২ আয়োজনে ছিল ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রচার স্বত্ব, আতিথেয়তা ও টিকিট বিক্রি এবং বিপণন স্বত্ব হবে আয়ের প্রধান উৎস। বেশি ম্যাচ, বেশি দর্শক এবং অধিক স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে এসব খাতে রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বুকিস ডটকমের হিসাব অনুযায়ী বিওএফএ জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীড়া বাজি এবং প্রেডিকশন মার্কেটের লেনদেন ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এই পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে প্রেডিকশন মার্কেট থেকে।

বিওএফএ’র হিসাবে, ২০২৬ বিশ্বকাপ বৈশ্বিক জিডিপিতে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ১৭ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ লাখ ২৪ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর