ঢাকা, ২৫ জুন বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

হ্যান্ডমেড এমব্রয়ডারি ও মেশিনে কাজ করা কাপড় চেনার উপায়

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:১৪ ২৫ জুন ২০২৬  

চিকনকারি, ফুলকারি, জরি, জ়রদৌসি ভারতের এই সব ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের সুনাম বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে। সময় নিয়ে যত্ন করে অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে তৈরি হতো একেকটি শাড়ি-পাঞ্জাবি বা কাপড়। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মেশিনে তৈরি এমব্রয়ডারি এতটাই নিখুঁত হয়ে উঠেছে যে, খালি চোখে হাতে করা কাজ এবং মেশিনের কাজের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। 

এদিকে হ্যান্ডমেড কাপড়ের দাম অনেক বেশি। কারণ তার পিছনে থাকা অক্লান্ত পরিশ্রম এবং প্রচুর সময়। তবে অনেকেই বাজারে কমদামি মেশিনে তৈরি শাড়িকে হ্যান্ডমেড এমব্রয়ডারি বলে চড়া দামে বেচে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কিছু সহজ বিষয় খেয়াল রাখলে আসল হ্যান্ডমেড এমব্রয়ডারি চেনা হয় অতি সহজ। রইল সেই টিপস…

স্বাভাবিক অসমতাই আসল কাজের পরিচয় 

হাতে করা এমব্রয়ডারির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার স্বাভাবিক অসমতা। কোনও কারিগর যখন নিজের হাতে নকশা তৈরি করেন, তখন প্রতিটি সেলাই বা ফোঁড় একেবারে একই রকম হয় না। কোথাও সামান্য দূরত্ব বেশি, কোথাও একটু কম— এই সূক্ষ্ম পার্থক্যই আসল হস্তশিল্পের সৌন্দর্য। অন্যদিকে, মেশিনে তৈরি নকশার প্রতিটি সেলাই একই মাপ ও দূরত্বে থাকে। যা একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়।

সেলাইয়ের দিকে খুঁটিয়ে নজর দিন 

কোনও এমব্রয়ডারি করা পোশাক কেনার আগে তার সেলাইগুলি ভালো করে পরীক্ষা করুন। মেশিনের কাজ সাধারণত অত্যন্ত সমান ও নিখুঁত হয়। কিন্তু হাতে করা কাজের ক্ষেত্রে কিছু স্বাভাবিক বৈচিত্র্য দেখা যায়। এটি কোনও ত্রুটি নয়, বরং একজন দক্ষ শিল্পীর হাতে তৈরি হওয়ার প্রমাণ।

পোশাকের উল্টো দিকটিও দেখুন 

অনেকেই পোশাকের শুধু সামনের অংশ দেখেই সিদ্ধান্ত নেন। অথচ আসল রহস্য লুকিয়ে থাকে কাপড়ের পিছনের দিকে। হাতে করা এমব্রয়ডারির ক্ষেত্রে পিছনে সুতোয় হালকা জট, ছোট গিঁট বা ইরেগুলার নকশার চিহ্ন দেখা যেতে পারে। কারণ প্রতিটি ফোঁড় আলাদা করে হাতে তৈরি করা হয়। বিপরীতে, মেশিনে তৈরি সূচিকর্মের পিছনের অংশও সাধারণত খুব পরিষ্কার, সমান এবং গোছানো থাকে।

নকশার গভীরতা ও টেক্সচার খেয়াল করুন 

জরদৌজি, আড়ি কাজ বা চিকনকারির মতো ঐতিহ্যবাহী এমব্রয়ডারির ক্ষেত্রে সুতো, পুঁতি, সিকুইন বা অন্যান্য অলঙ্কার ব্যবহার করা হয়। ফলে নকশায় একটি উঁচু-নীচু ভাব ও বিশেষ টেক্সচার তৈরি হয়। হাতে করা কাজের মধ্যে প্রাণবন্ততা ও গভীরতা স্পষ্ট ভাবে অনুভব করা যায়। তুলনায় মেশিনে তৈরি এমব্রয়ডারি অনেক সময় বেশি সমতল ও একঘেয়ে দেখায়

সময়ও বলে দেয় কাজের আসল পরিচয় 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জটিল ও সূক্ষ্ম নকশা তৈরি করতে একজন কারিগরের অনেক সময় লাগে— কখনও কয়েক দিন, কখনও কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও। তাই অত্যন্ত ভারী ও নিখুঁত এমব্রয়ডারি করা কোনও পোশাক যদি অল্প সময়ে তৈরি হওয়ার দাবি করে, তাহলে সেটি মেশিনে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

মনে রাখবেন, আসল হ্যান্ডমেড এমব্রয়ডারি শুধু একটি নকশা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন শিল্পীর দক্ষতা, ধৈর্য, নিষ্ঠা এবং বছরের পর বছরের অভিজ্ঞতা।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর