ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০২০ || ৯ আশ্বিন ১৪২৭
good-food
২৯৯

আমড়ার উৎসবের কথা শুনেছেন কী?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫১ ১৭ জানুয়ারি ২০২০  

আমাদের দেশি ফলের মধ্যে অন্যতম আমড়া।  এটি জনপ্রিয় সুস্বাদু একটি ফল। বরিশাল, পিরোজপুর ও স্বরুপকাঠি এলাকায় ফলটি বেশি পাওয়া যায়। এ অঞ্চলে দুই জাতের আমড়া চাষ হয়। ১. দেশি আমড়া ও ২. বিলাতি আমড়া। তবে এখানে দেশি আমড়া বেশি পাওয়া যায়।
দুই ধরনের আমড়া থেকেই সুস্বাদু আচার, চাটনি ও জেলি তৈরি করা যায়। তরকারি হিসেবেও এটি খাওয়া যায়। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং আঁশ রয়েছে। এগুলো শরীরের জন্য খুব দরকারি। হজমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুখের রুচি বৃদ্ধি করাসহ আমড়ায় অনেক গুণাগুণ রয়েছে।
বরিশালে বছরের একটি দীর্ঘ সময় নিচু জমিতে পানি জমে থাকে। শুকনো মৌসুমে জমির মাটি কেটে উঁচু করে কান্দি তৈরি করা হয়। সারাবছর এর মাঝে জোয়ারের পানি আসা যাওয়া করে। কিন্তু উঁচু মাটির কান্দিতে পানি ওঠে না। এসব উঁচু স্থানে সারি করে আমড়ার চারা লাগানো হয়।
এখানকার বেশিরভাগ বাড়িতে আমড়া গাছ রয়েছে। চারাগাছ লাগানোর পর তিন থেকে চার বছরের মধ্যে স্বল্প পরিমাণে ফলন শুরু হয়। এরপর প্রতিবছর ফলন বাড়তে থাকে। পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে পরিপূর্ণ ফলন পাওয়া যায়।
আগস্ট থেকে আমড়ার মৌসুম শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত চলে। এরপর থেকে শুরু হয় ‘বারো মাইশ্যা’ আমড়ার মৌসুম। এটি বছরের প্রায় পুরোটা সময় পাওয়া যায়। সাধারণ আমড়ার তুলনায় এর স্বাদ এবং দাম অনেক কম হয়।
মে’র মাঝামাঝি থেকে কারবারিরা বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে আমড়া গাছ কেনা শুরু করেন। এটি বিক্রি হয় ভাসমান বাজারে। কারবারিরা ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ভরে আমড়া নিয়ে যায় ইন্দুরহাট ও স্বরুপকাঠি বাজারে। সেখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পৌঁছায়।
সাধারণত, পাকা আমড়া পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় না। মৌসুম শেষে কারবারিরা যখন বাড়িতে আসে, তখন শুরু হয় এর উৎসব। আশেপাশের বাড়িতে তা বিলি করা হয়। সব বাড়িতে পাকা আমড়া রান্না করা হয়। তাতে থাকে নারকেল। কেউ আমড়া দিয়ে ছোট মাছ রান্না করেন। কেউবা করেন চাটনি। বয়স্ক কাকা ও কাকিমারা পাকা আমড়া দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খান। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়সী লোকেরা তা দিয়ে তৈরি খাবার খেতে বিভিন্ন বাড়িতে বেড়াতে যান। এভাবেই সবাই পাকা আমড়ার উৎসবে মেতে ওঠেন।
গেল বছরের চেয়ে এবার ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় কারবারিরা খুব খুশি। তারা আগামী বছর আরো উৎপাদন হওয়ার আশা করছেন। আমড়ার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ী ও চাষীরা।

সিটিজেন জার্নালিজম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর