ঢাকা, ০৪ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার আশঙ্কা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫৮ ৩ জুলাই ২০২৬  

উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, “জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে বন্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা বড় ধরনের বন্যার সৃষ্টি করে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই সময়েই দেশে ভয়াবহ বন্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের বন্যায় দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার প্লাবিত হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯৮ সালের বন্যায় জুলাই ও আগস্টজুড়ে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় দেশের ৩ কোটি মানুষ পানিবন্দি ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানি বৃদ্ধি পায়, তখনই বন্যার ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করে, যেমনটি ঘটেছিল ২০০৪ সালে। এ ছাড়া ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উজানের বৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিরই বহিঃপ্রকাশ।

সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য তিন দিন আগে বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকলেও আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। অন্যদিকে, উজানে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় মেঘনা অববাহিকার পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।

এফএফডব্লিউসির বৃহস্পতিবারের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে এসব জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে থাকলেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ার ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল সতর্কসীমায় থাকতে পারে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে নদীগুলোর পানি সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আগাম প্রস্তুতি ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।