ঢাকা, ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২১৫

শখের লটকন এখন লাভজনক ফল

প্রকাশিত: ২০:১৩ ৬ জুলাই ২০১৯  


কয়েক বছর আগে শখের বশে বাড়ির বাগানে লটকনের গাছ লাগিয়েছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। পরে তিনি জানতে পারলেন, শুধু  পরিবারে নয়, স্থানীয় বাজারেও বেশ ভালো চাহিদা আছে এ ফলের। এ থেকে লটকনের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন তিনি। প্রতি বছর এ ফল বিক্রি করে তিনি আয় করছেন দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। লাভজনক হওয়ায় এভাবে জেলাজুড়েই জনপ্রিয় উঠেছে লটকন চাষ।

একসময় জংলি ফল হিসেবে পরিচিতি পেলেও লটকন এখন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠেছে। এ ফলের জন্য আলাদা কোনো জমি বা বাড়তি খরচের প্রয়োজন হয় না। সুপারি, আম, কাঁঠাল বা যেকোনো বাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে লটকন চাষ করা হয়। এতে অন্য ফসলেরও কোনো ক্ষতি হয় না। সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ও মোগলবাসা, রাজারহাট উপজেলার ছিনাই, বিদ্যানন্দ, চাকিরপশারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কুড়িগ্রামের আবহাওয়া ও মাটি লটকন চাষের উপযোগী। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কুড়িগ্রামের উৎপাদিত লটকন এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মেটাচ্ছে। বর্তমানে জেলায় ৮৭ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হচ্ছে। এর বেশির ভাগই সুপারি বাগানের ভেতরের ছায়াযুক্ত জমি। এসব জমি থেকে এবার লটকন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭০ টন।

চাষীরা জানান, অল্প খরচেই লটকনের বাগান গড়ে তোলা যায়। ফলন ভালো হলে প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত থোকা থোকা লটকন ধরে। অন্যান্যবারের চেয়ে এবার লটকনের ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমান বাজারে মণপ্রতি লটকন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। সফল চাষীদের অনেকে নিজেরাই লটকনের চারা ও কলম তৈরি করে অন্য কৃষকদের মাঝে বিলি করছেন।

আনোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয় বাজারে চাহিদা ভালো দেখে তিনি বাড়িতেই লটকনের চারা ও কলম তৈরি করেন। পরে এর মধ্য থেকে ৩০০টি চারা বাড়ির সুপারি বাগানে রোপণ করেন। চারা লাগানোর তিন বছর পর থেকেই ফল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার স্থানীয় পাইকারদের কাছে ২ লাখ টাকায় লটকনের বাগান বিক্রি করেছি। এই লটকন স্থানীয় পাইকাররা কিনে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন।

একই এলাকার আরেক লটকন চাষী কুশল চন্দ্র রায় বলেন, আনোয়ার হোসেনকে দেখে তিনি নিজের বাগানে ২০০টির মতো লটকন চারা রোপণ করেন। এসব গাছ সার-কীটনাশক ছাড়াই সামান্য পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে। দুই বছর ধরে লটকন বিক্রি করছি। এবার বাগান বিক্রি করেছি ৯০ হাজার টাকায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও রাজু মিয়া বলেন, আমরা সেই বাগান থেকে লটকন কিনে বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য জেলার পাইকারদের ডেকে মণ দরে বিক্রি করি।

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, জেলার অনেকে বাড়তি খরচ ছাড়াই অন্য ফলের বাগানে কৃষকরা লটকন চাষ করে বাড়তি অর্থ আয় করছেন। এ কারণে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে যাদের সুপারি, আম, কাঁঠালের বাগান রয়েছে, তাদের ডেকে লটকনের বাগান দেখিয়ে উদ্বুদ্ধ করছি।