ঢাকা, ২২ জুলাই বুধবার, ২০২৬ || ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ৩ সঙ্কেত, অবহেলা করলেই বিপদ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৩৬ ২২ জুলাই ২০২৬  

বিশ্ব জুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ। সাধারণ মানুষের ধারণা বুকে বা কাঁধ থেকে বাঁহাতে তীব্র ব্যথাই বোধহয় হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ। কিন্তু বড় কোনও অঘটন ঘটার অনেক আগেই হৃদযন্ত্র অত্যন্ত গোপনে ও নিঃশব্দে কিছু সঙ্কেত দিতে শুরু করে।

হৃদরোগের ক্ষেত্রে শরীর অনেক আগেই ছোট ছোট সতর্কবার্তা পাঠায়। কিন্তু সচেতনতার অভাবে আমরা সেগুলোকে ‘বয়স বাড়ছে’ বা ‘সাধারণ ক্লান্তি’ ভেবে এড়িয়ে যাই। গবেষকদের মতে, এই গোপন সঙ্কেতগুলো আগেভাগে চিনতে পারলে অকাল হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেলিয়রের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে শরীর কী ভাবে জানান দেয়?

১. পুরুষদের যৌন দুর্বলতা

চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদরোগীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মূল সমস্যা ধরা পড়ার আগে, তাঁরা এই সমস্যায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল রোগ দেখা দেওয়ার প্রায় ৫ বছর আগেই এই লক্ষণটি দেখা দেয়। আমাদের শরীরের ছোট ধমনীগুলোতে (যেমন পেনাইল আর্টারি) রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে যে সমস্যা তৈরি হয়, হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনীতেও (Coronary Artery) ঠিক একই পরিস্থিতি ঘটতে থাকে। তাই কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা

অল্প কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙা, সামান্য হাঁটাহাঁটি বা ঘরের ছোটখাট কাজ করতেই যেন দম আটকে আসে? আমরা অনেকেই এটাকে ‘শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়া’ বা ‘ক্লান্তি’ ভেবে ভুল করি। কিন্তু চিকিৎসার ভাষায় একে বলা হয় ‘ডিসপনিয়া‘ (Dyspnoea)। আপনার হৃৎপিণ্ড যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত পাম্প করতে পারছে না অথবা ফুসফুসের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, এটি তার প্রমাণ।

৩. পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলা ভাব

নতুন জুতো শক্ত হওয়ার কারণে বা দীর্ঘ সময় বিমানে বা বাসে বসে জার্নি করার পর পায়ে সামান্য ফোলা ভাব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পা, গোড়ালি বা নীচের অংশে ক্রমাগত ফ্লুইড জমতে থাকা বা ফুলে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর অর্থ হতে পারে আপনার হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত সারা শরীরে সরবরাহ করতে পারছে না, ফলে রক্ত ও জল পায়ে গিয়ে জমছে। এটি 'হার্ট ফেলিয়র' বা কিডনির সমস্যার অন্যতম নীরব লক্ষণ।

কেন এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো বোঝা জরুরি?

হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং-এর একটি ২০২৩ সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ফোলা ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট হলো হার্ট ফেলিয়রের মূল প্রাথমিক উপসর্গ। মানুষ প্রায়শই এগুলোকে বার্ধ্যক্যের লক্ষণ মনে করে এড়িয়ে যান। অথচ সময়মতো এই সঙ্কেতগুলো ধরে সঠিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

এই প্রতিবেদন থেকে যা যা জানবেন

বিপদের ধরন: সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেলিয়র মানেই সর্বদা বুকে তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে।

করণীয়: উপসর্গগুলোকে বয়স বাড়ার লক্ষণ না ভেবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ইসিজি (ECG), ইকো (ECHO) বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো।

প্রতিরোধ: প্রাথমিক সঙ্কেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা।

প্রশ্ন: সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক কী?

উত্তর: সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হলো এমন এক ধরনের সমস্যা, যেখানে বুকে তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে না। এতে রোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়ে গিয়েছে, তবে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সঙ্কেত দেয়।

প্রশ্ন: পুরুষদের শারীরিক অক্ষমতা বা ইডি কীভাবে হৃদরোগের কারণ হতে পারে?

উত্তর: পুরুষাঙ্গের ধমনীগুলো হৃদযন্ত্রের ধমনীর চেয়ে অনেক ছোট বা সরু হয়। ফলে রক্ত সঞ্চালনে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তা প্রথমে ছোট ধমনীতেই ধরা পড়ে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন: পায়ে জল জমা বা ফোলা ভাব কি সবসময় হৃদরোগের লক্ষণ?

উত্তর: না, সবসময় নয়। তবে যদি দীর্ঘদিনের ফোলা ভাবের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকে, তবে এটি হার্ট সঠিক ভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারার বা হার্ট ফেলিয়রের সঙ্কেত হতে পারে।

প্রশ্ন: সামান্য হাঁটাহাঁটিতে হাঁপিয়ে উঠলে কী করা উচিত?

উত্তর: সামান্য পরিশ্রমে দম আটকে এলে বা শ্বাসকষ্ট হলে তাকে সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা না ভেবে অবিলম্বে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

একনজরে

# বুকে ব্যথা ছাড়াও শরীর গোপনে হৃদরোগের ইঙ্গিত বা 'সাইলেন্ট অ্যালার্ট' দিতে পারে।

# পুরুষদের শারীরিক ক্ষমতার অভাব বা ইডি হৃদরোগের প্রাথমিক বড় একটি সঙ্কেত হতে পারে।

# সামান্য পরিশ্রমে বা সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠা হৃৎপিণ্ড দুর্বল হওয়ার লক্ষণ।

# পায়ের পাতা বা গোড়ালিতে জল জমা ও ফোলা ভাব হার্ট ফেলিয়রের লক্ষণ হতে পারে।