ঢাকা, ১৬ জুন মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
৪২

আমাকে হয়রানি করা হয়েছে: ডা. জাহেদ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৪৮ ১৬ জুন ২০২৬  

দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণ ‘হয়রানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ের পিআইডি কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

ডা. জাহেদ বলেন, “আমার সঙ্গে সঠিক বিহ্যাভ (আচরণ) করা হয়নি। যেটা হয়েছে, তা হয়রানি বলতে পারেন। আমি হয়রানি হয়েছি।”

গত রবিবার রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হয়ে ভারতে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেওয়ার জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. জাহেদ। তার সঙ্গে থাকা অন্য প্রতিনিধিরা বিমানবন্দর পেরোনোর অনুমতি পেলেও তাকে ২ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়।

ডা. জাহেদ বলেন, “আমি মনে করি, আমার সঙ্গে যা হয়েছে তাকে হয়রানি বলতে পারেন। এর একটি যৌক্তিক প্রতিবাদ হওয়া দরকার। আমি সেখানে ব্যক্তি হিসেবে যাইনি। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছি। যেখানে বসতে দেওয়া হয়েছে সেটিও উপযুক্ত বলে মনে হয়নি।”

তিনি বলেন, “ওই অবস্থায় মনে হয়েছে, সবার আগে বাংলাদেশ। তাই সেসবের প্রতিবাদ হিসেবেই ব্যাক (ফেরত) করেছি।” তবে তার এই ফিরে আসা আগামীতে দুই দেশের এনগেজমেন্টে প্রভাব পড়বে না বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

ডা. জাহেদ বলেন, “ভারতের তরফ থেকে আমন্ত্রণ পেলে আবারও নিশ্চয়ই যাবো। তবে তা হতে হবে লজিক্যালি।” তিনি চান না এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কোনো অবনতি ঘটুক। 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “দেশের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো এনগেজমেন্টে যাবে না বাংলাদেশ।” এই ঘটনার পর কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ বলেন, “পরবর্তী সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে।”

তার সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হতে পারে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান।

ডা. জাহেদ বলেন, “দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশ হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন শুরু থেকেই। আমি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত তিনি ছিলেন। সেখানে তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না।”

সোস্যাল মিডিয়ায় নিজের সরব কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেকে নানা মাধ্যমে এক্টিভিজম করেছেন। সেটা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। তারা (ভারত) এমন আচরণ কেন করেছে আমি জানি না।”

ডা. জাহেদ বলেন, “কেবল ভারত নয়; বিশ্বের কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশ স্বার্থ ও আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে সম্পর্ক রাখতে পারে না। এজন্যই সরকার বলছে, সবার আগে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতেও কোনো সরকারকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় এমন আচরণ করা উচিত। আমারও তাদের সঙ্গে থাকবো।”

এদিন সরকারের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কথা বলার সময় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।