ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৩০ পৌষ ১৪৩২
good-food

ইরানে বিক্ষোভে ২০০০ জন নিহত: সরকারি কর্মকর্তা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:০৫ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬  

ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ২০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো এই বিপুল প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশব্যাপী অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর এই প্রথম কর্তৃপক্ষ এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করল।

ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, তীব্র দমন-পীড়নের শিকার হয়ে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।

রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি কর্মকর্তা এসব মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা কর্মী সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি এই কর্মকর্তা।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূলে কারণ চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও মুদ্রার রেকর্ড দরপতন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ দমাতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে, যাকে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জানায়, দেশটিতে ইন্টারনেট শাটডাউন বা ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট টানা ১০৮ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে।

সংস্থাটি বলছে, "১০৮ ঘণ্টা ধরে ইরান বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইরানিরা একে অপরের থেকেও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।" আন্দোলনকর্মীদের আশঙ্কা, নির্বিচারে চালানো ক্র্যাকডাউন বা দমন-পীড়নের খবর যেন বাইরের বিশ্ব জানতে না পারে, সে জন্যেই এই শাটডাউন দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।

ইরানের এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির চার দশকেরও বেশি পুরনো শাসনব্যবস্থার পতন দেখছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারজ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমি ধারণা করছি আমরা এই শাসনের শেষ দিন বা সপ্তাহগুলো প্রত্যক্ষ করছি।" তিনি আরও যোগ করেন, যদি কেবল সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে সেই শাসনের কার্যত সমাপ্তি ঘটেছে। তবে তার এই পূর্বাভাস কোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

জার্মান চ্যান্সেলরের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি বার্লিনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তুলে বলেন, এর ফলে জার্মানি তার সামান্যতম বিশ্বাসযোগ্যতাও হারিয়েছে।

এদিকে, ইরানের চলমান সংকটের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক ঘোষণা দেন, যেসব দেশ ইরানের সাথে ব্যবসা করবে তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বেড়ে গেছে জ্বালানি তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৭ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৪.৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪৫ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৫৯.৯৫ ডলারে উঠেছে।

ইরান সরকার এই বিক্ষোভের জন্য বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তবে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি বলেন, "সরকার বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী—উভয়কেই নিজের সন্তান মনে করে। আমরা তাদের কথা শোনার চেষ্টা করছি।"

উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প থাকলেও কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দেশটির বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর