ঢাকা, ০৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২১ মাঘ ১৪৩২
good-food

এপস্টেইন নথিতে নাম নেই যে ৫ প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৫৮ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

জেফরি এপস্টেইনের কাহিনি এখনও শেষ হয়নি। আদালতের নথি উন্মুক্ত হয়েছে ধাপে ধাপে। সংবাদমাধ্যম বিশ্লেষণ করেছে হাজার হাজার পৃষ্ঠা। সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছে অগণিত তালিকা—“কারা কারা ছিল সেই বৃত্তে?”

বহুল আলোচিত নামও এসেছে। ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আদালতের নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে দোষী—এমনও নয়। মার্কিন বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছে: কোনো আনুষ্ঠানিক “ক্লায়েন্ট লিস্ট” প্রকাশ করা হয়নি।

 

এই উত্তেজনার মাঝেই আরেকটি দিক প্রায় আড়ালে থেকে যায়—বিশ্বের বহু প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতার নাম এপস্টেইন-সংক্রান্ত উন্মুক্ত আদালত নথিতে নেই। এই অনুপস্থিতির কথাও বলা দরকার।

এখানে তেমন পাঁচজন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রনেতার কথা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

১. ভ্লাদিমির পুতিন — রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শক্তিধর মুখ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, ভূরাজনৈতিক উত্তাপ—সবকিছুর কেন্দ্রে পুতিন।

কিন্তু এপস্টেইন-সংক্রান্ত উন্মুক্ত ফেডারেল আদালত নথি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র বা প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে পুতিনের নাম নেই। কোনো ফ্লাইট লগ, সাক্ষ্য বা আদালত-নথিভুক্ত অভিযোগে তাঁর সম্পৃক্ততার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ক্ষমতার আকার বড় হলে সন্দেহও বড় হয়। কিন্তু নথি যেখানে নীরব, সেখানে গুজবই সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং

২. শি জিন পিং — চীনের প্রেসিডেন্ট 

চীনের সর্বোচ্চ নেতা শি জিন পিং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তাইওয়ান প্রশ্ন, বেল্ট অ্যান্ড রোড—সবখানেই তাঁর কৌশলগত উপস্থিতি।

তবে এপস্টেইন-সংক্রান্ত আদালত নথি বা উন্মুক্ত দলিলে শি জিন পিংয়ের নাম নেই। প্রকাশিত সাক্ষ্য, ফ্লাইট রেকর্ড বা অভিযোগপত্রে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।

অনলাইন আলোচনায় নাম টানা সহজ, কিন্তু বিচারিক দলিলের ভাষা নির্দিষ্ট—সেখানে তিনি অনুপস্থিত।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ

৩. সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ — সৌদি আরবের বাদশাহ

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী শাসক। জ্বালানি রাজনীতি, আঞ্চলিক কূটনীতি, বৈশ্বিক বিনিয়োগ—সৌদি আরবের ভূমিকায় তিনি কেন্দ্রে।

এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রকাশিত আদালত নথি বা মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে তাঁর নাম নেই। কোনো স্বীকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে সৌদি বাদশাহকে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।

প্রভাবশালী রাষ্ট্রের নেতা বলেই গুজবের লক্ষ্য হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রমাণের অভাব এখানে তাকে জড়ানোর কোনও সুযোগই নেই।

জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল

৪. অ্যাঞ্জেলা মের্কেল — জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর

ইউরোপের দীর্ঘ সময়ের এক স্থিতিশীল মুখ। ২০০৫ থেকে ২০২১—জার্মান রাজনীতিতে তাঁর সময় ছিল প্রভাবশালী ও নির্ধারক।

এপস্টেইন মামলার উন্মুক্ত আদালত নথি, সাক্ষ্য বা অভিযোগপত্রে অ্যাঞ্জেলা মের্কেলের নাম নেই। কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি।

দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা মানেই নানা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ। কিন্তু যোগাযোগ আর অপরাধ—এক জিনিস নয়।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

৫. জাস্টিন ট্রুডো — কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রুডো আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পরিচিত মুখ। জলবায়ু নীতি, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা—সবখানেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি।

এপস্টেইন-সংক্রান্ত উন্মুক্ত আদালত নথি বা তদন্ত প্রতিবেদনে ট্রুডোর নাম নেই। প্রকাশিত ডকুমেন্টের কোনো অংশে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।

ডিজিটাল যুগে ভুয়া তালিকা দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু সরকারি নথি যাচাই করলে দেখা যায়—অনেক আলোচিত নেতার নাম সেখানে নেই।

 

গুজব, নথি ও দায়িত্ব

এপস্টেইন কাহিনি আমাদের শুধু ক্ষমতার অন্ধকার দিক দেখায়নি, দেখিয়েছে সত্য আর সন্দেহের সূক্ষ্ম সীমারেখাও। ক্ষমতার অন্দরমহলে সম্পর্ক থাকতে পারে—কিন্তু সেই সম্পর্ক নিজে অপরাধ নয়। আবার এটাও সত্য, কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্ক থেকেই অপরাধের সূত্রও বেরিয়েছে। তাই সরলীকরণ এখানে বিপজ্জনক।

এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত জেফরি এপস্টেইন নথি

আদালতের নথিতে নাম থাকা মানেই কেউ দোষী—এমন নয়। কিন্তু নাম থাকা সম্পূর্ণ নির্দোষতার সনদও নয়। কোনো নাম যদি সাক্ষ্য, ফ্লাইট লগ, ইমেইল বা জবানবন্দিতে উঠে আসে, সেটি তদন্তের বিষয় হতে পারে। প্রমাণ, প্রসঙ্গ ও বিচারিক প্রক্রিয়াই ঠিক করে দেবে দায় কোথায় দাঁড়ায়।

 

একইভাবে, কোনো নাম নথিতে না থাকাও কাউকে নৈতিকভাবে উচ্চাসনে বসায় না। উন্মুক্ত নথি সীমিত হতে পারে, তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকতে পারে, কিংবা সব তথ্য প্রকাশ্যে নাও আসতে পারে। তাই “নেই” শব্দটিও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা দরকার।

 

বিশ্ব রাজনীতি রহস্যময় হতে পারে। কিন্তু রহস্য কখনোই প্রমাণের বিকল্প নয়। আবার প্রমাণের সম্ভাবনাকেও আগেভাগে বাতিল করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।
এপস্টেইনের গল্প তাই শুধু অপরাধের নয়—এটি সতর্ক ভাষা, তথ্য যাচাই এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মানের

বিশ্ব বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর