ঢাকা, ১০ জানুয়ারি শনিবার, ২০২৬ || ২৬ পৌষ ১৪৩২
good-food
২৫

ফেরাউন, নমরুদের মতো ট্রাম্পেরও পতন হবে: খামেনি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৪৪ ৯ জানুয়ারি ২০২৬  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইতিহাসের স্বৈরশাসকদের মতোই শেষ পর্যন্ত তাকেও পতনের মুখ দেখতে হবে।

তেহরানভিত্তিক ফার্সি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেওয়া ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি মদদপুষ্ট শক্তি ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে খামেনি বলেন, “ট্রাম্পের জানা উচিত- ফেরাউন, নমরুদ, রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজার মতো বিশ্বস্বৈরাচারীরা অহংকারের চূড়ায় থেকেও পতিত হয়েছে। সেও পতিত হবে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মুখেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র পিছু হটবে না। খামেনির ভাষায়, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত সহস্র সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাশকতাকারীদের সামনে এটি কখনোই মাথা নত করবে না।”

দেশের চলমান বিক্ষোভের প্রসঙ্গে সর্বোচ্চ নেতা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিক্ষোভ ট্রাম্পকে খুশি করার জন্যই করা হচ্ছে।

খামেনি বলেন, “তারা তাকে সন্তুষ্ট করতে চায়। সে যদি দেশ চালাতে জানত, তাহলে আগে নিজের দেশই ঠিকভাবে চালাত।” একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের নানা সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাত এক হাজারের বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত।” জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেন।

ভাষণের শেষাংশে খামেনি তার সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রিয় তরুণেরা, তোমরা প্রস্তুত ও ঐক্যবদ্ধ থাকো। ঐক্যবদ্ধ জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাজিত করতে পারে।”

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তেহরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই খামেনির এই কঠোর বক্তব্য এসেছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও তীব্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এরই মধ্যে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার জন নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন।  

বৃহস্পতিবারই পুরো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিভিত্তিক সরকারি সেবা, সরকারি সাইট সব বন্ধ হয়ে গেছে। মনিটরএক্স জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র নড়াচড়া শুরু করেছে। চলমান আন্দোলনের সঙ্গে এর সম্পর্ক স্পষ্ট নয়।