ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ১৬ মাঘ ১৪৩২
good-food
১০

১ ফেব্রুয়ারি থেকে মুনাফা তুলতে পারবেন ৫ ব্যাংকের গ্রাহক

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৪৬ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬  

সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, পাঁচ ব্যাংকের সব ধরনের গ্রাহক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মুনাফা উত্তোলন করতে পারবেন।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ইসলামী ব্যাংক পিএলসিসহ এই ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারা জানিয়েছে, 'ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫' অনুযায়ী সব আমানতকারীর মূলধন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং একটি অনুমোদিত রেজুলেশন স্কিমের আওতায় ধাপে ধাপে তা ফেরত দেওয়া হবে।

গভর্নর জানান, গ্রাহকদের তারল্য সংকট কমাতে বড় অঙ্কের আমানতকারীদের জন্য তাদের জমার বিপরীতে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার বিশেষ সুবিধাও চালু করা হয়েছে।

রেজুলেশন স্কিম অনুযায়ী আমানত পরিশোধের প্রক্রিয়াটি হবে:

  • চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব: প্রতিটি হিসাব থেকে আমানতকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
  • মেয়াদি আমানত (এফডিআর/ডিপিএস): মেয়াদ পূর্তির পর সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
  • অবশিষ্ট অর্থ: বাকি আমানতের টাকা আগামী দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে।
  • ঋণ সুবিধা: প্রতি ছয় মাস পর পর আমানতকারীরা একবারে ১ লাখ টাকা করে ঋণ নিতে পারবেন। এই ঋণের পরিমাণ মোট জমার ৪০ শতাংশের বেশি হবে না।

মুনাফা সংক্রান্ত বিশেষ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো লোকসানে থাকায় শরিয়াহ কাউন্সিলের পরামর্শে নিয়মিত মুনাফা বিতরণ সম্ভব হয়নি। তবে আমানতকারীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ মুনাফা: ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতের মেয়াদি ও স্কিম আমানতের ওপর 'ইহসান' (অনুদান/সহানুভূতি) হিসেবে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। এই অর্থ সরকার প্রদান করবে, যা আমানতকারীদের মূলধনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মুনাফা উত্তোলন: আমানতকারীরা এখন থেকে নিয়মিতভাবে তাদের প্রাপ্য মুনাফা তুলতে পারবেন। জানুয়ারি মাসের মুনাফা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তোলা যাবে। একইসঙ্গে গ্রাহকরা নিজেদের বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে অর্থ লেনদেনও (আন্তঃহিসাব) করতে পারবেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নতুন মুনাফার হার

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-সহ ব্যাংকগুলো নতুন ও পুরোনো সব আমানতকারীর জন্য নিয়মিত ও প্রতিযোগিতামূলক হারে মুনাফা প্রদান করবে। এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না।

কার্যকর হতে যাওয়া মুনাফার হার:

মেয়াদি আমানতের মুনাফা:

  • ১ মাস থেকে ৩ মাসের কম: ৫.২৫% - ৬.০০%
  • ৩ মাস থেকে ৬ মাসের কম: ৮.০০%
  • ৬ মাস থেকে ১ বছরের কম: ৮.৫০% - ৯.০০%
  • ১ বছর থেকে ২ বছরের কম: ৯.০০% - ৯.৫০%
  • ২ বছর বা তার বেশি: ৯.৫০%

বৃহৎ আমানতের মুনাফা:

  • ২৫ কোটি টাকার নিচে: ৩.০০%
  • ২৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার নিচে: ৩.২৫%
  • ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকার নিচে: ৮.০০%
  • ১০০ কোটি টাকার বেশি: ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী

মুদারাবা আমানত স্কিম:

  • হজ সেভিংস স্কিম: ৭.৫০% - ৮.০০%
  • এডুকেশন সেভিংস স্কিম: ৬.৮০%
  • ম্যারেজ সেভিংস স্কিম: ৬.৮০% - ৭.৩০%

অন্যান্য স্কিমগুলোর হারও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক ঋণ ও বিনিয়োগের মুনাফা:

  • শিল্প ও কার্যকরী মূলধন ঋণ: ১২.০০% - ১২.৫০%
  • রপ্তানি অর্থায়ন: ১৩.০০% - ১৪.৫০%
  • গৃহঋণ: ১৪.০০% - ১৫.০০%
  • ভোক্তা ঋণ: ১৪.৫০%

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “তারল্য ব্যবস্থাপনা, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।” 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সিস্টেম প্রস্তুত হলে পর্যায়ক্রমে অনলাইন ট্রান্সফার, এনপিএসবি, ইএফটি, আরটিজিএস এবং এটিএম সেবাসহ অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করা হবে।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে এই রেজুলেশন স্কিমকে একটি "শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই সমাধান" হিসেবে বর্ণনা করেছে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য সব আমানতকারীকে আহ্বান জানানো হয়েছে।