ঢাকা, ১১ মার্চ বুধবার, ২০২৬ || ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

২০৯ বল হাতে রেখে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:২২ ১১ মার্চ ২০২৬  

১১৫ রানের লক্ষ্য। ওয়ানডেতে এ আর এমন কী! মামুলি এই লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২০৯ বল হাতে রেখে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৮ উইকেটে। 

এটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে উইকেটে ব্যবধানে যুগ্মভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয়। আগেরটি ছিল ২০১৫ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

সেই ম্যাচে ২৫১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৬৩ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও একই ভেন্যুতে ফিরল ১১ বছর আগের স্মৃতি। 

লক্ষ্য তাড়ায় উইকেটে এসেই ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ২৭ রানে। 

অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির বলে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান (৪)। এরপর দ্বিতীয় উইকেট তানজিদ ৬৭ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে। 

জয়ের খুব কাছাকাছি এসে ভাঙে সেই জুটি। ৩৩ বলে ৫ চারে ২৭ রান করে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে বিদায় নেন শান্ত। 

তবে বাংলাদেশকে ঠিকই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তানজিদ। বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারে ২ ‍উইকেট হারিয়ে করে ১১৫ রান।

ইফতার বিরতির জন্য এই নির্ধারি ছিল ৪০ মিনিট। তার আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে সহজ জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা ইনিংসের ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি ওয়াইড হতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তানজিদ।

এই বাঁহাতি ওপেনার ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ৫ ছক্কা। ৩২ বলে ফিফটি করেন তানজিদ। ৩ রান নিয়ে তার সঙ্গে মাঠ ছাড়েন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। 

তার আগে বুধবার মিরপুরে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নাহিদ রানার তোপ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানিদের সর্বনিম্ন স্কোর।

এর আগেরটি ছিল ১৬১ রান। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছিল ৬২ রানে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম জয়। 

 টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। গতির ঝড় তুলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ কাঁপিয়ে দেন নাহিদ রানা। 

৭ ওভারে ২৪ রান দিয়ে একাই ৫ উইকেট নিয়েছেন এই বাংলাদেশি পেসার। পাকিস্তানের প্রথম ৫ ব্যাটারকে ফেরান তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে নাহিদের হাতে। 

ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান ৬৯ রানেই হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দলীয় শতক পেরোনোয় কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তাদের।

পাকিস্তান ৯ উইকেট হারায় ৮২ রানে। সেখান থেকে দলকে শতকের ঘরে নিয়ে যান ফাহিম আশরাফ। এই বোলিং অলরাউন্ডার ৪৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান। 

মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ফাহিম আউট হতেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস। পাকিস্তানিরা খেলতে পেরেছে ৩০.৪ বল। 

অথচ ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছিল পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে ৪১ রান করেন সাহিবজাদা ফারহান (২৭) ও অভিষিক্ত মাজ সাদাকাত (১৮)। সেই জুটি ভাঙেন রানা। 

সাহিবজাদার বিদায়ের পরপরই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। তিনে ব্যাটিংয়ে নামা আরেক অভিষিক্ত শ্যামিল হুসাইন করেন ৪ রান।

ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগে বিদায় নেন সালমান আগাও (৫)। তার আগে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।

এবারই প্রথম ওয়ানডেতে এক ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন নাহিদ। দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে পাকিস্তানের পরের ৩ উইকেট নেন অধিনায়ক মিরাজ। 

তিনি ফেরান হুসাইন তালাত (৪), ওয়ানডেতে অভিষিক্ত (০) ও শাহিন আফ্রিদিকে (৪)। এরপর মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে (০) আউট করেন পেসার তাসকিন আহমেদ। শেষ উইকেটে আবরার আহমেদের (০*) সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়েন ফাহিম। 

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর