ঢাকা, ১০ মার্চ মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

জ্বালানি তেলের সংকট নেই, দাম বাড়বে না: প্রতিমন্ত্রী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:০৮ ১০ মার্চ ২০২৬  

উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থেকে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। উদ্বেগ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কমে যাবে। তেলের দাম বাড়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, “যদিও সাম্প্রতিককালে আমরা দেখেছি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। এই প্রশ্ন আসতেই পারে তাহলে কেন দীর্ঘ লাইন? আমাদের স্বাভাবিক যে চাহিদা, সেই চাহিদার চাইতে গত সপ্তাহের পাঁচ দিন কার্যত দু থেকে তিন গুণ কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ করেও কিন্তু আমরা মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেক ক্ষেত্রে কমাতে পারিনি কিংবা কমেনি।”

মন্ত্রী বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি- জালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই আল্লাহর রহমতে।”

“মধ্যপ্রাচ্যে একটি সংকট চলছে। সে সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে এটা বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ আসলে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে খুঁজে বের করা কঠিন। সম্মিলিতভাবেই এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে”—বলেন তিনি।

সরকার জনদুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে করে জনদুর্ভোগ কমানো যায়। না হলে অন্তত সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়।”

এই অস্বাভাবিক চাহিদা কোনো যৌক্তিক কারণে ছিল না বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। বলেন, “এটি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে, প্যানিক বায়িং থেকে এটি হতে ঘটতে পারে। আমরা এটাকে অস্বাভাবিকভাবে নয়, স্বাভাবিকভাবে দেখেছি। সমাধান করার চেষ্টা করছি।”

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, “আজকে আমরা নোটিশ জারি করেছি যে যারা রাইড শেয়ার করেন তারা পাঁচ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল নিতে পারবেন। যেটি আগে দুই লিটার ছিলো।”
 
তিনি বলেন, “অকটেন এবং পেট্রোলে কার্যত কোনো সংকট নেই। পেট্রোল পুরোটাই বাংলাদেশে নিজেরা উৎপাদন ও পরিশোধন করি। অকটেনেরও বড় অংশ আমরা দেশ থেকেই পাই।”

জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবে না সরকার

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা করছে না। বলেন, “আমরা মূলত জ্বালানি আমদানি নির্ভর ডিজেলের জন্য, ফার্নেস অয়েলের জন্য। এখনও পর্যন্ত যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়নি তাই দাম বাড়ানোর চিন্তাও সরকারের নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল গড়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের জ্বালানি নিয়ে। একটি এসেছে। আর একটি যেটি গতকাল এসে পৌঁছানোর কথা ছিল সেটি বহির্ণোঙরে পৌঁছেছে। আজকে দুপুর নাগাদ আমরা মনে করছি আমরা এটার জ্বালানি খালাস করতে পারব। ১২ তারিখে আর একটি কিন্তু জাহাজ আসছে।”