ঢাকা, ০৭ মার্চ শনিবার, ২০২৬ || ২২ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
৩৭

তেল বিক্রিতে কড়াকড়ি:মোটরসাইকেলে বরাদ্দ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:২৪ ৬ মার্চ ২০২৬  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জ্বালানি মজুত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে গ্রাহক ও ডিলারদের মধ্যে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যানবাহনের ধরন অনুযায়ী প্রতিবার তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এখন থেকে পাম্পগুলো থেকে নির্ধারিত সীমার বেশি জ্বালানি তেল কেনা যাবে না।

জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা রোধে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। 

শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বিপিসি। 

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যানবাহনের ধরনভেদে তেল কেনার নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিবার তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের জন্য ১০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ করা হয়েছে। .

এ ছাড়া এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারী যানবাহনের মধ্যে পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য প্রতি ট্রিপে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ক্যারিয়ারের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সংগ্রহ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। মূলত বাজারে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতেই এই সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।

বিপিসি জানিয়েছে, মজুতদারি রোধ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিক্রির বিপরীতে রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যেখানে জ্বালানির ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ থাকবে। গ্রাহকদের পরবর্তীবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ প্রদর্শন করতে হবে।

এ ছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিত তাদের মজুত ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোকে জানাতে হবে। তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো এই তথ্য যাচাই করে তবেই ডিলারদের নতুন করে তেল সরবরাহ করবে। অনুমোদিত বরাদ্দের বাইরে কোনো অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিপিসি আশ্বস্ত করেছে, জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া শিডিউল অনুযায়ী চলছে এবং নিয়মিত চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে। রেল ওয়াগন ও ট্যাংকার ট্রাকের মাধ্যমে সারাদেশে তেল পাঠানো হচ্ছে। খুব দ্রুতই বাফার স্টক বা আপদকালীন মজুত গড়ে উঠবে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন।

সংকটের অজুহাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিপিসি।

দেশে প্রতি মাসের শুরুতে জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে তারা। অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য গ্রাহক ও ডিলারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।