ঢাকা, ০৭ মার্চ শনিবার, ২০২৬ || ২২ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
৪৫

আমেরিকার সঙ্গে কোনো আপস নয়: আরাগচি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৩৯ ৬ মার্চ ২০২৬  

আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে আরাগচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে নতুন করে আলোচনার কোনও যৌক্তিকতা দেখছেন না তারা।

সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিচ্ছি না। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো কারণও আমরা দেখছি না।”

ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে কোনও বার্তা পাঠানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

আরাগচি বলেন, “এর আগে আমরা দুইবার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম, কিন্তু প্রতিবারই আলোচনার মাঝপথে তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন ১২ দিন ধরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলেছিল। তখনও ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আরাগচি উত্তর দেন, “আমরা মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তাদের মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমাদের আছে। ইরনে স্থল অভিযান তাদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।”

মার্কিন আগ্রাসন মোকাবিলায় তেহরান কতটা প্রস্তুত এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের চেয়েও আমরা এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রস্তুত। যুদ্ধের ময়দান থেকেই আমরা অনেক শিক্ষা গ্রহণ করেছি। আপনারা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের গুণগত মান দেখলেই বুঝতে পারবেন যে গত যুদ্ধের পর সেগুলো কতটা উন্নত করা হয়েছে।”

ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক আরও যোগ করেন, “আমরা যে কোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছি। আমাদের সেনারা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। আমি যখন বলি যে আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি, তার মানে এই নয় যে আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাই। বরং আমরা বলতে চাচ্ছি যে, যে কোনো পরিস্থিতি বা সম্ভাবনা মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা তা সামলাতে জানি।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনও সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।

সংলাপ শেষ হওয়ার একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। একই সময়ে ইসরাইলও ইরানে অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।

এদিকে টানা ৭ দিন ধরে চলমান সংঘাতে এরই মধ্যে ১ হাজার ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।