ঢাকা, ০৭ মার্চ শনিবার, ২০২৬ || ২২ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
৪২

নেপালে সরকার গঠনের পথে গণঅভ্যুত্থানকারীরা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৩৪ ৬ মার্চ ২০২৬  

নেপালে গণঅভ্যুত্থানকারীরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। নেপালের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় কাঠমণ্ডুর মেয়র বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) এগিয়ে রয়েছে। দেশের অন্তত ৪৪টি আসনে আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় দলটি সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো করেছে।

আরএসপির হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ। জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ‘বালেন’ নামে পরিচিত কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র।

ঝাপা-৫ আসনে বালেন শাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সিপিএন-ইউএমএল চেয়ারম্যান কেপি শর্মা অলিকে ছাড়িয়ে এগিয়ে রয়েছেন। 

গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অঘোষিত নেতা ছিলেন এই র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ। তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছিলেন নেপালের তরুণ প্রজন্মের সিংগভাগ। 

আরএসপি মূলত জেন জি প্রজন্মের সমর্থনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। গত বছরের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের ঢেউ থেকেই দলটির জনপ্রিয়তা বাড়ে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানের মুখে নেপালে সরকার পতন হয়।

প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে, আরএসপি দেশজুড়ে ৪৪টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান রবি লামিছানে চিতওয়ান-২ আসনে লিডে আছেন। বালেন শাহ ঝাপা–৫ আসনে এগিয়ে রয়েছেন।

কাঠমাণ্ডুর ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ১০ আসনে আরএসপি প্রার্থীরা লিডে রয়েছেন। ভক্তপুর–১ ও ভক্তপুর–২ আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। এছাড়া মোরাং, ধানুশা, রৌতাহাট, বারা, ললিতপুর, কাস্কি, রূপান্দেহি, দাং, ব্যাংকে ও কান্চনপুরসহ একাধিক আসনেও আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশ। বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই বলেন, রাজনৈতিক দল, ভোটার, সরকার, গণমাধ্যমসহ সব পক্ষের সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগের আন্দোলনের পরও তরুণ ভোটাররা ইতিবাচকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।”

২০২৫ সালে নেপালে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমে আসেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা।

নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা মিশ্র পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন। ভোটাররা দুটি ব্যালট দেন একটি নিজ আসনের প্রার্থীর জন্য এবং অন্যটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য। মোট ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসন সরাসরি নির্বাচনে এবং বাকি ১১০টি আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। এই ১৬৫টি আসন দেশটির সাতটি প্রদেশে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলির দল নির্বাচনে বিশেষ ছাপ ফেলতে পারেনি। হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশে যে ১৬৫টি আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচন হচ্ছে, তার ৮টিতে এগিয়ে রয়েছে অলির দল। আর বালেন্দ্রের আরএসপি এগিয়ে রয়েছে ৯০টি আসনে। অন্যদিকে, নেপালের সবচেয়ে পুরনো দল গগন থাপার নেপালি কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯টি আসনে।

নেপালের আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল এগিয়ে রয়েছে সাতটি আসনে। প্রচণ্ড নিজে রুকুম পূর্ব-১ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থী। আর অন্য দলগুলো এখন পর্যন্ত পেয়েছে দুটি আসন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি অভ্যুত্থানের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী অলির সরকারের। তিন দিন পরে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। লড়াইয়ে ছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল।