ঢাকা, ০৭ মার্চ শনিবার, ২০২৬ || ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

অভ্যাসগুলো কতটা ক্ষতিকর? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৪৫ ৭ মার্চ ২০২৬  

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু অভ্যাস আছে, যেগুলোকে আমরা খুব সাধারণ বলে ধরে নিই। আঙুল ফোটানো, প্রস্রাব চেপে রাখা, কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করা কিংবা গরম গরম খাবার খাওয়া- এসব অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস।

সম্প্রতি একটি প্রশ্নোত্তর প্ল্যাটফর্মে এমন কয়েকটি ‘নীরব অভ্যাস’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যেখানে দাবি করা হয়—এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সব অভ্যাসই যে ভয়ংকর ক্ষতি করে- এমন ধারণা ঠিক নয়। মুম্বাইয়ের উকহার্ট হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হানি সাভলা এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর?

অনেকে মনে করেন আঙুল ফোটালে আর্থ্রাইটিস হয়। কিন্তু গবেষণায় এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আঙুল ফোটানোর সময় যে শব্দ হয়, তা আসলে জয়েন্টের ভেতরের তরলে থাকা গ্যাসের বুদবুদ সরে যাওয়ার কারণে। তবে খুব জোরে বা বারবার করলে লিগামেন্টে সাময়িক অস্বস্তি বা গ্রিপ শক্তি কমে যেতে পারে।

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে মূত্রথলিতে সংক্রমণ হতে পারে। 

প্রস্রাব চেপে রাখা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

এটি তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর অভ্যাস। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে মূত্রথলির ওপর চাপ পড়ে এবং এতে সংক্রমণ বা ব্লাডার ঠিকভাবে খালি না হওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে।

কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করা কি ঠিক?

চিকিৎসকেরা সাধারণত এটি নিরুৎসাহিত করেন। কারণ কটন বাড ব্যবহার করলে কানের ময়লা আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে, এমনকি কানের পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আসলে কান নিজেই নিজেকে পরিষ্কার রাখতে পারে; বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখাই যথেষ্ট।

খুব গরম খাবার খাওয়া

অতিরিক্ত গরম খাবার মুখ, গলা ও খাদ্যনালির আবরণে জ্বালা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে টিস্যুর ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ে।

খাবারের সময় পানি পান করা

অনেকেই মনে করেন খাবারের সময় পানি খেলে হজম নষ্ট হয়। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, পরিমিত পানি পান করলে তাতে সমস্যা হয় না; বরং গিলতে সুবিধা হয়।

কটন বাড ব্যবহার করলে কানের ময়লা আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। 

উপুড় হয়ে ঘুমানো

পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমালে ঘাড় ও মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে ঘুমালে ঘাড়ে ব্যথা, অস্বস্তি ও ঘুমের মান খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পাশ ফিরে বা চিত হয়ে ঘুমানোই শরীরের জন্য বেশি উপকারী।