ঢাকা, ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

মাইগ্রেন কমাতে যে ১০ নিয়ম মানতে হবে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৪৮ ১২ মার্চ ২০২৬  

মাথাব্যথার মধ্যে সবচেয়ে কষ্টদায়কগুলোর একটি হলো মাইগ্রেন। এই ব্যথা সাধারণ মাথাব্যথার মতো নয়। মাইগ্রেনে সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্র ব্যথা হয়, সঙ্গে থাকতে পারে বমি বমি ভাব, বমি এবং আলো বা শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।

অনেক সময় এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করে।

তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে মাইগ্রেনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিউরোলজিস্ট ডা. প্রিয়াঙ্কা সেহরাওয়াত সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে মাইগ্রেনের সম্ভাব্য ট্রিগার এবং প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরেছেন।

মাইগ্রেনের সাধারণ ট্রিগার

মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে হলে আগে জানা দরকার কোন বিষয়গুলো এই ব্যথাকে ট্রিগার করে।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, মানসিক চাপ, রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, মাসিক চক্রের পরিবর্তন, তীব্র রোদে থাকা, ভ্রমণজনিত ক্লান্তি, জাঙ্ক ফুড খাওয়া এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকা- এই বিষয়গুলো মাইগ্রেনের ব্যথাকে প্ররোচিত করতে পারে। কিছু খাবার যেমন চকলেট বা চিজও অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।

মাইগ্রেন কমাতে ১০ খাদ্যাভ্যাস

১. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খান

সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া মাইগ্রেনের বড় কারণ। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

প্রতিদিন ২–৩ লিটার পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে, যা মাথাব্যথার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া মাইগ্রেনের বড় কারণ।

৩. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বাড়ান

খাদ্যতালিকায় ডিম, ডাল, ছোলা, বাদাম, টোফু, পনির বা গ্রিক দইয়ের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে শক্তি স্থিতিশীল থাকে।

৪. ভাজাপোড়া ও প্রসেসড খাবার কমান

ট্রান্স ফ্যাট বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৫. খালি পেটে চা–কফি নয়

খালি পেটে চা বা কফি খেলে অনেক সময় মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এর বদলে ডাবের পানি পান করা ভালো।

৬. কুমড়ার বীজ খাওয়ার অভ্যাস করুন

সকালে এক চা–চামচ বা ৬–১০টি কুমড়ার বীজ খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।

৭. ফলের রসের বদলে সম্পূর্ণ ফল খান

ফলের রসের চেয়ে সম্পূর্ণ ফল বেশি উপকারী, কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকে।

৮. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি খান

প্রতিদিন অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায়।

৯. চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন

সফট ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক বা অতিরিক্ত চিনি শরীরে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং মাইগ্রেনও বাড়াতে পারে।

১০. চকলেট ও চিজ কম খান

চকলেট এবং চিজ দুটৈ খান পরিমিত। কারও কারও ক্ষেত্রে এই দুটো খাবার মাইগ্রেন ট্রিগারের কারণ হতে পারে।

এর পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, দৌড়, সাঁতার বা অন্য কোনো শারীরিক ব্যায়াম করাও মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়ক।

তবে দৃষ্টিসমস্যা, জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য সমস্যা বা সপ্তাহে দুইবারের বেশি মাথাব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।