ঢাকা, ১৫ মার্চ রোববার, ২০২৬ || ১ চৈত্র ১৪৩২
good-food

ঈদের আগে জ্বালানি সংকট কাটলো

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:২৯ ১৫ মার্চ ২০২৬  

অবশেষে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে স্বস্তির খবর এলো। চট্টগ্রাম বন্দরে একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার পৌঁছানোয় দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট নিয়ে চলমান উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ঈদযাত্রা ও বোরো সেচ মৌসুম নির্বিঘ্ন করতে জ্বালানি বিতরণে আরোপিত রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

রবিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উত্তেজনা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলে সরকারকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে জ্বালানি বিতরণে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হয়েছিল। 

তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। নতুন চালান আসতে শুরু করায় আমরা পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি নিশ্চিত করেন, আমদানি করা জ্বালানি তেল নিয়ে কয়েকটি ট্যাঙ্কার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে এবং খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই জ্বালানি দ্রুততম সময়ে দেশের বিভিন্ন ডিপো ও বিতরণ কেন্দ্রে পাঠানো হবে, যা বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার ১৫ মার্চ থেকেই জ্বালানি বিতরণে আরোপিত রেশনিং ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা করা। দ্বিতীয়ত, বোরো সেচ মৌসুম চলমান থাকায় কৃষকদের সেচ কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।”

সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো গাফিলতি হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিতরণ ব্যবস্থার কিছু দায়িত্বহীন আচরণ এবং কতিপয় ভোক্তার আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা সাময়িক অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যেন জ্বালানি মজুত করতে না পারে, সে জন্য বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানির দাম বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার দেশের ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। দেশের অর্থনীতি যতদিন এই চাপ বহন করতে পারবে, ততদিন দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।”