ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ১ মাঘ ১৪৩২
good-food
৭৫

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের রণডঙ্কা, কাতার ঘাঁটি ছাড়ছে মার্কিন সেনারা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:২৬ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬  

ইরানে চলমান অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন বিমানঘাঁটি থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যেকোনো মার্কিন হামলা মোকাবিলায় তারা ‘শেষ রক্তবিন্দু’ দিয়ে লড়াই করবে।

রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে কর্মরত বেশ কিছু মার্কিন সেনাকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘাঁটি ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিন জন অজ্ঞাতনামা কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। এখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

যদিও একে ‘পোশ্চার চেঞ্জ’ বা অবস্থানের পরিবর্তন বলা হচ্ছে, তবে বিশ্লেষকরা একে সম্ভাব্য যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর পাল্টা হুংকার দিয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ। এক নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি বলেন, হামলাকারীদের জন্য ইরানের কাছে ‘অনেক চমক’ জমা আছে।

যেসব দেশ ইরানকে আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে বা নিজেদের মাটি ব্যবহার করতে দেবে, তারা ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে বলেও জানান তিনি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এর বিমান বহরের কমান্ডার সরদার মুসাভি দাবি করেন, গত বছরের জুনের তুলনায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বর্তমানে অনেক বেড়েছে। ইরানের সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা এখন শিখরে।

গোয়েন্দা তথ্যমতে, ইরানের বর্তমানে প্রায় ২,০০০ এর বেশি দুরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। এগুলো সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম।

সামরিক উত্তেজনার মাঝে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পথগুলোও রুদ্ধ হয়ে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের সরাসরি লাইনটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। ফলে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক বিক্ষোভ এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ‘প্রতিষ্ঠান দখলের’ উসকানি দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। ট্রাম্পের এই ক্রমাগত হুমকির মুখেই তেহরান তার সামরিক বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থানে রেখেছে।

বিশ্ব বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর