ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ২০ মাঘ ১৪৩২
good-food
৩১

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ৬ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:১৮ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উন্মাদনা। অন্য আট-দশটা ম্যাচের মতো নয়। শুধু ব্যাট-বলের লড়াইই থাকে না, আরও অনেক কিছু। অন্যতম হচ্ছে অর্থের ঝনঝনানি। 

বলা হয় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আর্থিক চালিকাশক্তি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যে পরিমাণ অর্থ আয় হয়, আট-দশটা ম্যাচ মিলিয়ে তার সমপরিমাণ হয় না। সেই ম্যাচই যদি কোনো কারণে না হয় তাহলে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। 

টাকার অঙ্কটা চোখ কপালে ওঠার মতো। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মূল্য কমপক্ষে ৫০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসর, টিকিটসহ অন্যান্য কর্মাশিয়াল-বৈধ বেটিং এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। 

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চাহিদা এতটাই বেশি যে ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপি খরচ করতে হয় বিজ্ঞাপনদাতাদের। আইসিসির ‘সোনার ডিম পাড়া’ ম্যাচটি এবার না হওয়ার মুখে। ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে পাকিস্তান জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে না তারা।

পাকিস্তান বয়কট করায় আইসিসির মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। কেননা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচের ওপর আরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। এক সম্প্রচারস্বত্ব থেকেই ৩০০ কোটি ভারতীয় রুপি আয় হয়। যেখানে অন্য ম্যাচ থেকে আসে ১৩৯ কোটি ভারতীয় রুপি। ম্যাচটি না হলে তাই সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান জিওস্টার ক্ষতির মুখে পড়বে।

হেভিয়েট ম্যাচ না হলে ভারত-পাকিস্তানও ক্ষতির মুখে পড়বে। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ২০০ কোটি ভারতীয় রুপির লোকসান হবে দুই দলের। আইসিসি থেকে বর্তমানে মোট রাজস্বর ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় পিসিবি। অর্থের হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা পায়। ম্যাচটি না হলে স্বাভাবিকভাবেই তাতে টান পড়বে। 

শুধু কী ভারত-পাকিস্তান? না, টান পড়বে আইসিসির সব স্টেকহোল্ডারদের। পূর্ণ সদস্যে দল থেকে শুরু করে সহযোগী দলও আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়বে। আর্থিক ক্ষতি হবে খেলাটির প্রাণ হিসেবে পরিচিত দর্শকদেরও। কেননা ম্যাচটি দেখতে ইতিমধ্যে টিকিট কেটেছে দর্শক-সমর্থকরা। সঙ্গে বিমানের টিকিট বুকিং, হোটেল ভাড়ার খরচ রয়েছে। 

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে তার প্রভাব শুধু এবারই পড়বে না, ভবিষ্যতেও পড়বে। সামনেও যে এমন হবে না তার নিশ্চয়তা কে দিবে? অর্থাৎ, বিশ্বাসযোগ্য হারাবে। সঙ্গে দুই দলের ম্যাচের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে আসবে। সেই সুবিধা নিয়ে সম্প্রচার মাধ্যম থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনদাতারা টাকার পরিমান কমিয়ে দেবে। তাতে আয় কমবে আইসিসির। সবকিছু মিলিয়েই তাই পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সামনে কী হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর