ঢাকা, ০১ ফেব্রুয়ারি রোববার, ২০২৬ || ১৯ মাঘ ১৪৩২
good-food

জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বারাক ওবামার ৩ পরামর্শ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৩২ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো কাকে বিয়ে করবেন। শুধু আবেগ বা মুহূর্তের ভালো লাগা নয়, এই সিদ্ধান্ত আপনার সুখ, মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি কাজের জীবনকেও প্রভাবিত করে। সঠিক মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলে জীবনটা অনেক সহজ আর সুন্দর হয়ে যায়। গবেষণাও বলছে, সুখী দাম্পত্য জীবন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কর্মজীবনেও সাফল্যের পথ মসৃণ করে। 

তবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। এই মানুষটিই কি আমার জন্য সঠিক? ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো সঙ্গীর সঙ্গে বিবাহিত মানুষ অবিবাহিতদের তুলনায় বেশি সুখী এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে ভালো থাকে। গবেষণাটির নাম ছিল হ্যাপি হেলদি অ্যান্ড ওয়েডেড, যেখানে গবেষকেরা দেখিয়েছেন, দাম্পত্য জীবনের মান সরাসরি মানুষের সামগ্রিক ভালো থাকার সঙ্গে যুক্ত।


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখেন। ড্যান ফাইফারের লেখা একটি বইয়ে বারাক ওবামার দেওয়া চমৎকার কিছু পরামর্শের কথা উঠে এসেছে। ড্যান ফাইফার ছিলেন ওবামার একজন সহকর্মী। ২০১৫ সালে হোয়াইট হাউসে ওবামার শেষ দিনগুলোতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে তাদের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত আলাপ হয়েছিল। ড্যান তখন তার প্রেমিকার সাথে একসাথে থাকতে শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। 

ওবামা তখন ড্যানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে সেই মেয়েটিই কি তার জীবনের আসল মানুষ কি না। ড্যান যখন ইতিবাচক উত্তর দিলেন তখন ওবামা তাকে তিনটি বিশেষ প্রশ্ন করেছিলেন। এই তিনটি প্রশ্ন ড্যানের জীবন বদলে দিয়েছিল এবং এক বছর পরেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসুন জেনে নেওয়া যাক বারাক ওবামার দেওয়া সেই তিনটি প্রশ্ন সম্পর্কে।


প্রথম প্রশ্ন: তিনি কি একজন আকর্ষণীয় মানুষ?

বারাক ওবামার প্রথম পরামর্শ ছিল এটি যাচাই করা যে আপনার সঙ্গী মানুষটি হিসেবে আকর্ষণীয় কি না। এখানে আকর্ষণ বলতে কেবল বাহ্যিক রূপ নয় বরং তার চিন্তা ও ব্যক্তিত্বকে বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন। আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটাবেন আপনার সঙ্গীর সাথে। 


অসংখ্য রাতের খাবার একসাথে খাওয়া থেকে শুরু করে লম্বা পথ পাড়ি দেওয়া কিংবা অবসরের অলস সময়গুলো পার করার জন্য একজন ভালো আলাপচারী সঙ্গী থাকা খুব জরুরি। যদি আপনাদের মধ্যে কথা ফুরিয়ে যায় তবে সম্পর্কের মধ্যে একঘেয়েমি চলে আসবে। বারাক ওবামা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে সঙ্গীর প্রতি কৌতূহল থাকা ভালোবাসাকে দীর্ঘজীবী করে। তাই এমন একজনকে বেছে নিন যার মন আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে এবং সাধারণ আড্ডাগুলোকে অ্যাডভেঞ্চারে পরিণত করবে।


দ্বিতীয় প্রশ্ন: তিনি কি আপনাকে হাসাতে পারেন?

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো রসবোধ বা হিউমার। ওবামা জানতে চেয়েছিলেন যে সেই সঙ্গী আপনাকে হাসাতে পারে কি না। তিনি জানতেন যে আনন্দ হলো এমন এক আঠা যা একটি দম্পতিকে কঠিন সময়েও জুড়ে রাখে। হাসি কেবল ঝগড়া মেটায় না বরং মানসিক চাপ কমিয়ে মনে রাখার মতো সুন্দর স্মৃতি তৈরি করে। জীবন খুব ছোট এবং নিরানন্দ গাম্ভীর্য নিয়ে সারাজীবন কাটানো অসম্ভব। 

যারা একসাথে হাসতে পারে তাদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব অনেক বেশি হয়। বিজ্ঞানও বলছে যে যেসব দম্পতি একসাথে হাসে তাদের মধ্যে তৃপ্তি অনেক বেশি থাকে। কয়েক দশক পরেও আপনারা একে অপরের ঠাট্টা বুঝতে পারছেন এবং হাসছেন এমন দৃশ্য কল্পনা করাও আনন্দের। ওবামা ঠিক এই জাদুর কথাই বলতে চেয়েছিলেন।

তৃতীয় প্রশ্ন: তিনি কি একজন ভালো অভিভাবক হবেন?

সবশেষে ওবামা ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি তোমরা সন্তান নিতে চাও, তবে ভেবে দেখো সে কি একজন ভালো মা বা বাবা হতে পারবে? ওবামার মতে জীবন অনেক বড় এবং সময়ের সাথে সাথে এই গুণগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সন্তান লালনপালন করা একটি বড় পরীক্ষা। 

মা বা বাবা হিসেবে আপনাদের দুজনের আদর্শ বা মূল্যবোধ যদি এক না হয় তবে সংসারে ফাটল ধরতে পারে। আর যদি আপনারা সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেন তবে এই প্রশ্নটি করা জরুরি কারণ একজন ভালো মা বা বাবার মধ্যে যে ধৈর্য এবং মমতা থাকে তা সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য।

ওবামা নিজেও তার স্ত্রী মিশেলের ক্ষেত্রে এই গুণগুলো দেখেছিলেন। তিনি মিশেলকে তার সেরা বন্ধু এবং সন্তানদের জন্য একজন আদর্শ মা হিসেবে সবসময় প্রশংসা করেছেন। ওয়ারেন বাফেটও বলেছেন, সঠিক মানুষকে বিয়ে করা আপনার জীবন এবং স্বপ্নকে বদলে দিতে পারে। তাই চেকলিস্টের বাইরে গিয়ে ওবামার এই তিনটি প্রশ্ন নিজেকে করুন। যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে বুঝবেন আপনি সঠিক পথেই আছেন।

সাকসেস স্টোরি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর