ঢাকা, ১৭ মার্চ মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৩ চৈত্র ১৪৩২
good-food

ঈদে চড়া মসলার বাজার

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:২৭ ১৭ মার্চ ২০২৬  

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে মসলার দাম। বাড়তি চাহিদার সুযোগে অনেক জায়গায় দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ প্রায় সব ধরনের মসলার দামই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি ফেরাতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। না হলে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

তবে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদে মাসলার দাম তেমন বাড়েনি। দাম যা বাড়ার তা আগেই বেড়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে মসলার বাজারে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও বেশিরভাগ পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

কারওয়ান বাজারে প্রতিটি নারিকেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা দরে, অথচ অন্যান্য সময়ে প্রতিটি নারিকেল মিলতো ৮০ থেকে ১২০ টাকার ভেতরে। আর মোরব্বা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের নোয়াখালী দধি ভান্ডারের বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, “ঈদের আগের তুলনায় এখন ২০ থেকে ২৫ টাকার মতো বাড়ছে নারিকেলের দাম। এটা সব ঈদেই বাড়ে।” 

রান্নায় অতি প্রয়োজনীয় ভোজ্যতেলের দামও বাড়তি। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। এ নিয়ে ভোক্তারা প্রশ্ন রাখলে বিক্রেতারা বলছেন, তাদের কিনতে হয়েছে বোতলের গায়ের মূল্যে, তাই লাভে বিক্রি করছেন।

বর্তমানে আড়তগুলোতে পাইকারিতে হলুদ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, দেশি ও ভারতীয় মরিচ যথাক্রমে ২৫০ ও ৩৯০ টাকা, ভারতীয় জিরা ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা ও কিশমিশ ৭৭০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে লবঙ্গ এক হাজার ৩৫০ টাকা ও কাঠবাদাম এক হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে খুচরা বাজার থেকে এই পণ্যগুলোর বেশ ভালো দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

খুচরায় হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকা কেজিতে, দেশি ও ভারতীয় মরিচ ৩০০ ও ৪৫০ টাকা, ভারতীয় জিরা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি। লবঙ্গ এক হাজার ৫০০ টাকা, কাঠবাদাম এক হাজার ৩৫০ টাকা কেজি। 

কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী মো. আজিম জানান, আগে কম দামে বিক্রি হলেও এই যুদ্ধের কারণে আলু বোখারার দাম কেজিতে ৩০০ টাকা বেড়েছে। ৯০০ টাকার এই মসলা এক হাজার ২০০ টাকা হয়ে গেছে। সাড়ে ৮০০ টাকার কিশমিশ এক হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আগের মতোই এলাচির কেজি পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, লবঙ্গ দেড় হাজার টাকা, জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও দারুচিনি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলা বিক্রেতা আক্তারুজ্জামান বলেন, “মসলা আমদানিনির্ভর পণ্য। ইরান, দুবাই, ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে বেশির ভাগ মসলা আসে। এখানে মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তান-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রভাব মসলায় পড়েছে।”

এদিকে, বাজারে দাম কমেছে পেঁয়াজের। প্রতি কেজি পেঁয়াজ মিলছে মাইভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আর রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে।

তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, “ঈদে ফিরনি, সেমাই, পোলাও, বিরিয়ানি ও মাংস রান্নায় মসলা লাগে। চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন। বাজারে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে”

এই অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ক্যাব।

ক্যাবের সদস্যরা বলছেন, রমজান ঘিরে ফল, মসলা, খেজুর, ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেল পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর আগেই বেশির ভাগ পণ্য বন্দরে চলে এসেছে। যুদ্ধের অজুহাতে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা ঈদ সামনে রেখে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।