ঢাকা, ১৬ মার্চ সোমবার, ২০২৬ || ২ চৈত্র ১৪৩২
good-food

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাহিদুলের জয়

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৩৩ ১৬ মার্চ ২০২৬  

ফ্রান্সের পৌরসভা (মিউনিসিপ্যাল) নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে কাউন্সিলর পদে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নাহিদুল মোহাম্মদ। 

উত্তর প্যারিসের উপশহর সাঁ-দনি থেকে অতি বামপন্থী রাজনৈতিক দল ‘লা ফ্রঁন্স আঁসুমিজর’ (এলএফআই) প্যানেলে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তার প্যানেল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় নাহিদুল সরাসরি নির্বাচিত হন।

রবিবার ফ্রান্সে ২০২৬ সালের পৌর নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়। প্যারিসের সর্বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাহিদুলের পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জ জেলায়। 

জয়ের পর তিনি বলেন, “ফ্রান্সের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অভিবাসী বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এই বিজয় স্থানীয় সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করবে।”

দেশজুড়ে প্রায় ৩৫ হাজার শহর ও গ্রামে একযোগে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ। প্রথম দফার ফলে কট্টর ডানপন্থীদের তুলনায় বামপন্থীরা এগিয়ে থাকলেও কোনো পক্ষই একক আধিপত্য দেখাতে পারেনি। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আগামী ২২ মার্চ দ্বিতীয় দফার ভোট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্যারিসে সোশ্যালিস্ট পার্টি ও বাম জোটের প্রার্থী এমানুয়েল গ্রেগোয়া প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থী ‘লে রিপাবলিকান’ সমর্থিত রাশিদা দাতি পেয়েছেন ২৫.৫ শতাংশ ভোট। 

দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিওঁতে পরিবেশবাদী বর্তমান মেয়র গ্রেগরি দুশে ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যঁ-মিশেল আউলাস উভয়েই প্রায় ৩৬.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সমাবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া মার্সেই ও লিল শহরেও বাম ও কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।

জঁ লুক মেলনশোর নেতৃত্বাধীন অতি বাম দল এলএফআই বেশ কয়েকটি শহরে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। উত্তর ফ্রান্সের রুবে শহরে দলটির প্রার্থী ডেভিড গিরো ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ের পথে রয়েছেন। তবে সোশ্যালিস্ট পার্টি (পিএস) জাতীয় পর্যায়ে এলএফআইয়ের সঙ্গে জোট গড়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ‘সবুজ ঢেউ’ তোলা পরিবেশবাদীরা এবার কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। স্ট্রসবুর্গসহ বেশ কিছু শহরে তারা পিছিয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় দ্বিতীয় দফার আগে ডানপন্থী দলগুলোও বড় ঐক্যের ডাক দিয়েছে।

ফ্রান্সে ভোটাররা সরাসরি ব্যক্তি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকার পক্ষে ভোট দেন। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয় এবং নির্বাচিত কাউন্সিলররা পরে নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র নির্বাচিত করেন। 

এবার মেয়র পদে কোনো বাংলাদেশি না থাকলেও প্যারিসের বিভিন্ন উপশহরে কাউন্সিলর পদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ফল ফ্রান্সে নতুন এক রাজনৈতিক ভারসাম্যের আভাস দিচ্ছে। তবে বড় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে যাবে, তা নির্ধারিত হবে দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত লড়াইয়ে।