ঢাকা, ১৮ মার্চ বুধবার, ২০২৬ || ৪ চৈত্র ১৪৩২
good-food

এক নো বলেই উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:২১ ১৮ মার্চ ২০২৬  

ক্রিকেট মাঠে একটি নো-বল যে এতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা পাকিস্তানি পেসার আসাদ আখতারকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। করাচি ব্লুসের এই বোলারের এক ডেলিভারি এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

পেশাওয়ারের ইমরান খান স্টেডিয়ামে লাহোর ব্লুসের বিপক্ষে তিনি যখন বল করতে এলেন, তখন মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়াল তার পায়ের অবস্থান। ডেলিভারি দেওয়ার সময় ক্রিজ থেকে অনেকটা সামনে পা ফেলে তিনি যে নো-বলটি করলেন, তাতে নিমেষেই ফিরে এল ২০১০ সালের সেই অভিশপ্ত লর্ডস টেস্টের স্মৃতি।

ক্রীড়াপ্রেমীরা আসাদ আখতারের এই নিয়ন্ত্রণহীন বোলিং দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। অনেকের মতেই, ডেলিভারির সময় তার পা বোলিং ক্রিজ যতটা অতিক্রম করেছে, তা স্বাভাবিক কোনো ভুল হতে পারে না। ২০১০ সালে লর্ডসে মোহাম্মদ আমিরের সেই পরিকল্পিত নো-বলের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।

২৫ বছর বয়সী এই পেসারের বোলিং নিয়ে তাই ফিক্সিংয়ের সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে অতীতেও এমন অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

এই বিতর্কের মাঝেই নতুন করে ঘি ঢেলেছে সাবেক অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাকের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য। তিনি ২০১০ সালের সেই ফিক্সিং চক্র ফাঁস হওয়ার রোমহর্ষক কাহিনী নতুন করে সামনে এনেছেন।

রাজ্জাক জানান, লন্ডনের এক মোবাইল মেকানিক বন্ধুর মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছিলেন যে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা বুকিদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। সেই সময় তরুণ আমির শুরুতে সব অস্বীকার করলেও অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির কড়া শাসনের মুখে সত্য বেরিয়ে এসেছিল।

বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেটে আসাদ আখতারের এমন অস্বাভাবিক নো-বল সেই পুরনো ক্ষতকেই যেন নতুন করে জাগিয়ে তুলল। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, একই ওভারে পর পর নিয়ন্ত্রণহীন বল করা এবং অস্বাভাবিক দূরত্বে পা ফেলা কেবল ফর্মের অভাব হতে পারে না।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাটির সততা রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর